
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: দীর্ঘ ২১ বছর শিক্ষকতা করার পর চাকরি হারানোর অভিযোগ তুলেছেন কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার আরজত আতরজান উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (খণ্ডকালীন) মোঃ জোনায়েদ হোসেন (জুয়েল)।
তার দাবি, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু বকর ছিদ্দিকের একক সিদ্ধান্তে তাকে অন্যায়ভাবে পাঠদান থেকে বিরত রাখা হয় এবং পরবর্তীতে চাকরিচ্যুত করা হয়। অভিযোগের পর এক বছরের বেশি সময় পার হলেও এখনো মেলেনি কোনো চূড়ান্ত প্রতিকার।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে জেলা প্রশাসক, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী শিক্ষক। অভিযোগে তিনি দাবি করেন, কোনো যথাযথ প্রশাসনিক বা আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই তাকে শিক্ষকতা কার্যক্রম থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এরপর বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের মধ্যে একাধিকবার চিঠিপত্র আদান-প্রদান হলেও অভিযোগ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
সম্প্রতি ২৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে জেলা শিক্ষা অফিস, কিশোরগঞ্জ থেকে জারি করা এক সরকারি পত্রে উল্লেখ করা হয়, মোঃ জোনায়েদ হোসেন (জুয়েল) অন্যায়ভাবে চাকুরিচ্যুত হওয়ার অভিযোগ এনে প্রতিকার চেয়েছেন।
ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে জেলা শিক্ষা অফিস ২ মার্চ ২০২৬ তারিখে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের নিকট প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চেয়ে পত্র প্রেরণ করে।
তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ৩০ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে কোনো নির্দেশনা বা মতামত পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি এখনো নিষ্পত্তিহীন অবস্থায় রয়েছে।
এ ঘটনায় শিক্ষা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা। তাদের মতে, একজন শিক্ষকের চাকরি ও পেশাগত মর্যাদার সঙ্গে জড়িত অভিযোগ বছরের পর বছর ঝুলে থাকা প্রশাসনিক দুর্বলতারই ইঙ্গিত দেয়। একটি অভিযোগ তদন্ত ও নিষ্পত্তিতে এত দীর্ঘ সময় লাগা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
স্থানীয় শিক্ষাবিদদের ভাষ্য, কোনো শিক্ষককে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া বা পাঠদান কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার ক্ষেত্রে নির্ধারিত বিধি-বিধান ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ বাধ্যতামূলক। যথাযথ তদন্ত ছাড়া এমন সিদ্ধান্ত শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য নেতিবাচক দৃষ্টান্ত হতে পারে।
ভুক্তভোগী শিক্ষক মোঃ জোনায়েদ হোসেন (জুয়েল) বলেন, “২১ বছর ধরে আমি এই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করেছি। আমার বিরুদ্ধে কোনো গুরুতর অভিযোগ না থাকা সত্ত্বেও আমাকে কর্মস্থল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমি প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচার চাই। একজন শিক্ষক হিসেবে আমার সম্মান ও অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”
তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন কর্মহীন থাকার কারণে তিনি আর্থিক, সামাজিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। একই সঙ্গে তার পেশাগত ভবিষ্যৎও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় ধরে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন জোনায়েদ হোসেন। ফলে তার চাকরিচ্যুতি নিয়ে এলাকাজুড়েও নানা আলোচনা ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষক। তার প্রত্যাশা, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন হবে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।
এখন প্রশ্ন উঠেছে, একজন শিক্ষকের অভিযোগ নিষ্পত্তিতে যদি বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয়, তবে প্রশাসনিক জবাবদিহিতা কোথায়? সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কার্যকর পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষক ও স্থানীয় সচেতন মহল।
আরও খবর: চট্টগ্রাম বন্দর ইস্যুতে জাতীয় স্বার্থবিরোধী কোন সিদ্ধান্ত মানবে না চট্টগ্রামবাসী, চট্টগ্রাম জামায়াত
Leave a Reply