
মোঃ আতিক উল্লাহ চৌধুরী, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি।
চট্টগ্রাম নগরীর নাসিরাবাদ জাকির হোসেন রোডে অবস্থিত লায়ন আই চক্ষু হাসপাতালে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বিনামূল্যের চক্ষু চিকিৎসা ও ছানি অপারেশনের ১০ম ধাপ।লায়ন আই হসপিটালের উদ্যোগে, জ্যাকো ফাউন্ডেশন কানাডার সহযোগিতায় এবং আল মুসাইদাহ ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এই ধাপে আরও ৪৫ জন রোগীর চোখের ছানি অপারেশন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
গত ৬ নভেম্বর ২০২৫ বৃহস্পতিবার ছিল এই ধাপের তৃতীয় দিন। এদিন আরও কয়েকজন মানুষ ফিরে পেয়েছেন তাদের দৃষ্টির আলো। চোখের পর্দা উঠতেই কারও মুখে ফুটে উঠেছে অগাধ আনন্দের হাসি, কেউ আবার নতুন করে দেখেছেন প্রিয়জনের মুখ।
অপারেশনের পর এক বৃদ্ধ রোগী আবেগভরে বলেন, “তোমাদের জন্য দোয়া করি, আল্লাহ যেন তোমাদের সবসময় ভালো রাখেন।”
দিনব্যাপী চলা এই ক্যাম্পে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত রোগীদের ফ্রি চিকিৎসা, চশমা প্রদান, ছানি রোগী নির্বাচন ও অপারেশনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়। অপারেশন শেষে রোগীদের বিনামূল্যে ওষুধ ও সানগ্লাস সরবরাহ করা হয়।
মাঠপর্যায়ে তদারকির দায়িত্বে ছিলেন আল মুসাইদাহ ফাউন্ডেশনের সহ-সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবদুল কাদের রুবেল, সমাজকল্যাণ সম্পাদক ওমর ফারুক এবং সদস্য মোহাম্মদ ইউছুপসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা।
অপারেশনের পরদিন সকালে যখন রোগীদের চোখের ব্যান্ডেজ খোলা হয়, তখন হাসপাতালের পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে এক আবেগঘন দৃশ্য। কেউ চোখে জল, কেউ মুখে হাসি—সব মিলিয়ে যেন মানবতার উৎসব। চিকিৎসক দল প্রতিটি রোগীর চোখ পরীক্ষা করে ওষুধ ব্যবহারের নিয়ম ও যত্নের নির্দেশনা প্রদান করেন।
চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত অসহায় ও দরিদ্র মানুষজন এই ফ্রি সেবায় অংশ নিয়েছেন। সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পাশে থেকে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম চালিয়ে আসছে আল মুসাইদাহ ফাউন্ডেশন—যা মানবতার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে দৃষ্টিহীন জীবনে নতুন দিগন্ত।
পরিশেষে আয়োজকদের এক সদস্য বলেন, “প্রতিটি আলো ফিরে পাওয়া চোখ, প্রতিটি হাসি আমাদের মনে করিয়ে দেয়—মানবসেবার চেয়ে মহৎ কাজ আর কিছু হতে পারে না। দিনশেষে এই হাসিই আমাদের পুরস্কার, এই দোয়াই আমাদের প্রেরণা।”
Leave a Reply