
নড়াইল প্রতিনিধি
“ফ্যাসিস্ট আমলের মতো নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী দিয়ে বিএনপি সরকারের সময়ে কাজ চলবে না” কঠোর হুঁশিয়ারি দিলেন নড়াইল-১ আসনের এমপি বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম।
নড়াইল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রায় ৬ কোটি ৮৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন ৬তলা একাডেমিক ভবনে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন নড়াইল-১ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম।
পরিদর্শনকালে তিনি নির্মাণস্থলে পড়ে থাকা বালু, পাথরসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন এবং প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন।
এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সংসদ সদস্য বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম বলেন,
“এ কাজের জন্য যে বালু, পাথর ও অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী রাখা হয়েছে, সেগুলোর মান অত্যন্ত নিম্নমানের। ফ্যাসিস্ট আমলের মতো নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী দিয়ে বিএনপি সরকারের সময়ে কোনো উন্নয়নকাজ চলতে পারে না। জনগণের অর্থে নির্মিত প্রতিটি প্রকল্পে নির্ধারিত মান বজায় রেখেই কাজ সম্পন্ন করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে কাজ পরিচালনার অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ বিষয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী অরুনাভ রায়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন তিনি। একই সঙ্গে প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিলের উদ্যোগ নেওয়ারও নির্দেশনা দেন।
পরিদর্শন শেষে সংসদ সদস্য বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং নির্মাণকাজের বিভিন্ন বিষয়ে তাদের মতামত ও অভিযোগ শোনেন। পরে তিনি নির্মাণাধীন ভবনের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন।
একই দিনে তিনি নড়াইল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন ১০তলা ভবন পরিদর্শন করেন। সেখানেও নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠে আসে। ভবনটি ঘুরে দেখে তিনি সাংবাদিকদের বলেন,
“এ প্রকল্পেও নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। দ্রুত এসব উপকরণ পরিবর্তন করে প্রকল্পের সিডিউল অনুযায়ী মানসম্মত নির্মাণসামগ্রী দিয়ে কাজ সম্পন্ন করতে হবে।”
তিনি শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীকে নির্দেশ দেন, প্রকল্পের প্রতিটি ধাপ যথাযথভাবে তদারকি করে নির্ধারিত মান নিশ্চিত করার পরই কাজ বুঝে নিতে হবে।
পরে নড়াইল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময়কালে সংসদ সদস্য আশ্বাস দেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মানসম্মত নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে ভবনের কাজ সম্পন্ন করা হবে।
জানা গেছে, দুটি প্রকল্পের মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ঢাকার দারুস সালাম এলাকার সাউথ কল্যাণপুরের মেসার্স মিরণ এন্টারপ্রাইজ। স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে কাজ বাস্তবায়ন করছেন মেসার্স ইডেন এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী রেজাউল আলম।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে রেজাউল আলম বলেন, প্রকল্পে নির্ধারিত মান অনুযায়ীই বালু ও পাথর সরবরাহ করা হয়েছে। কিন্তু শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অযৌক্তিকভাবে বেজমেন্ট ঢালাইয়ের অনুমতি দিচ্ছেন না।
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্পে ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রী সত্যিই যদি নির্ধারিত মানের নিচে হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের পাশাপাশি প্রয়োজন হলে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমেও তদন্ত হওয়া উচিত। একই সঙ্গে প্রকল্পের গুণগত মান নিশ্চিত করে জনস্বার্থ রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
আরও পড়ুন খানসামায় কৃষক কার্ড তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম উদ্বোধন ও বিনামূল্যে বীজ-রাসায়নিক সার বিতরণ
Leave a Reply