
গাইবান্ধা থেকে মোঃ আবু জাফর মন্ডল:
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা সীমানাবর্তী নাকাই খাল পুনঃখনন প্রকল্প নির্ধারিত সময় ও কাজের মান বজায় রেখে সম্পন্ন হয়েছে। এ প্রকল্পের কাজ শেষে বরাদ্দকৃত অর্থ থেকে অব্যয়িত প্রায় ৪২ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং সেচ সুবিধা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সরকারের খাল পুনঃখনন কর্মসূচির আওতায় গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার নাকাই খালের ৪ দশমিক ৯২০ কিলোমিটার অংশ পুনঃখনন করা হয়। এ প্রকল্পের জন্য মোট ২ কোটি ৬ লাখ ৩ হাজার ৮০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও কাজ সম্পন্ন করতে ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ৬৪ লাখ ১২ হাজার ২৫২ টাকা। অবশিষ্ট অর্থ সরকারি বিধি অনুযায়ী কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।
পলাশবাড়ীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বুলবুল জানান, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সমন্বিত তদারকি ও সঠিক পরিকল্পনার কারণে কম ব্যয়ে গুণগত মান বজায় রেখে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে।
জানা গেছে, চলতি বছরের ১২ মে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। বাস্তবায়নকালীন সময়ে প্রকল্পের অগ্রগতি, ব্যয় ও কাজের মান নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হয়। শ্রমিকদের মজুরি, যন্ত্রপাতি ব্যবহার, পরিবহনসহ সব ধরনের ব্যয় পরিশোধের পরও প্রায় ৪২ লাখ টাকা অবশিষ্ট থাকে, যা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।
প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) সদস্যরা জানান, প্রকল্প চলাকালে সদ্য বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ জাবের আহমেদ নিয়মিত কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। তার তদারকিতে নির্ধারিত মান বজায় রেখে পুনঃখননের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পুনঃখননের ফলে খালে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক হয়েছে। স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে দখল ও পলি জমে খালটি প্রায় অচল হয়ে পড়েছিল। এতে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচ সংকট দেখা দিত। খাল পুনঃখননের পর পানি নিষ্কাশন সহজ হওয়ায় কৃষিকাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে তারা আশা করছেন।
এলাকাবাসীর দাবি, এই খালের মাধ্যমে অন্তত ২০টিরও বেশি বিলের পানি নিষ্কাশন হয়। অতীতে জলাবদ্ধতার কারণে অনেক জমিতে আমন চাষ ব্যাহত হতো। এখন পানি চলাচল স্বাভাবিক হওয়ায় কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশীয় মাছের প্রাকৃতিক আবাসও পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় কৃষক গোলজার রহমান বলেন, খাল পুনঃখননের ফলে বর্ষাকালে দ্রুত পানি নেমে যাবে। এতে জলাবদ্ধতা কমবে এবং ফসলহানির ঝুঁকিও অনেকাংশে হ্রাস পাবে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আব্দুস ছালাম বলেন, প্রকল্পে সরকারি অর্থের অপচয় হয়নি। প্রয়োজনীয় ব্যয় শেষে অবশিষ্ট অর্থ সরকারি চালানের মাধ্যমে কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, সরকারি অর্থ জনগণের আমানত। তাই প্রতিটি প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও ব্যয় সাশ্রয় নিশ্চিত করা জরুরি। প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্নের পর অবশিষ্ট অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, জনগণের কল্যাণে বরাদ্দকৃত প্রতিটি টাকার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করাই প্রশাসনের দায়িত্ব এবং এ লক্ষ্যেই উপজেলা প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে।
আরও পড়ুন ঝালকাঠিতে খাল পুনঃখননে ফিরছে কৃষিজমির প্রাণ, বাড়বে কৃষি ও মাছের উৎপাদন
Leave a Reply