
নিজস্ব প্রতিনিধি তারিকুল ইসলাম তারা: কুড়িগ্রামের সীমান্তবর্তী রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলায় বিদ্যুতের চরম সংকট যেন নিত্যদিনের বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে।
দিনের পর দিন ঘন ঘন লোডশেডিং, ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ এবং লো-ভোল্টেজের কারণে প্রায় তিন লাখ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তীব্র গরমের এই সময়ে বিদ্যুৎ সংকট মানুষের দুর্ভোগকে আরও অসহনীয় করে তুলেছে।
রবিবার (৫ জুলাই) সকাল ১১টায় রৌমারী উপজেলা চত্বরে বিদ্যুৎ গ্রাহক সংগ্রাম কমিটির উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। “বিদ্যুতের দাম কমাও, লোডশেডিং ও লো-ভোল্টেজ বন্ধ করো”—এই দাবিকে সামনে রেখে আয়োজিত কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। তারা দ্রুত বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, বিদ্যুৎ এখন বিলাসিতা নয়, বরং মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য সেবা। অথচ রৌমারী ও রাজিবপুরের মানুষ প্রতিনিয়ত অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। কখন বিদ্যুৎ থাকবে, কখন চলে যাবে—তার কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি নেই। অনেক এলাকায় দিনে একাধিকবার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হচ্ছে, আবার কোথাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ মিলছে না।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রাতের বেলায় লোডশেডিংয়ের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। প্রচণ্ড গরমে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক পরিবার নির্ঘুম রাত কাটাতে বাধ্য হচ্ছে।
শিক্ষার্থীরা জানান, রাতের বেলায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। পরীক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন। অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, অনিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহের কারণে দোকান, ক্ষুদ্র শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ফ্রিজনির্ভর ব্যবসা ও অনলাইনভিত্তিক সেবায় প্রতিদিন আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। বিকল্প বিদ্যুতের ব্যবস্থা করতে গিয়ে অতিরিক্ত ব্যয়ও বহন করতে হচ্ছে।
এ ছাড়া হাসপাতাল, ব্যাংকিং কার্যক্রম, মোবাইল নেটওয়ার্ক, ইন্টারনেট সেবা এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাজও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে ব্যাহত হচ্ছে। লো-ভোল্টেজের কারণে অনেক বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন গ্রাহকরা।
সমাবেশে বক্তারা দ্রুত লোডশেডিং ও লো-ভোল্টেজের স্থায়ী সমাধান, বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তারা বলেন, জনগণের এই দীর্ঘদিনের ভোগান্তির দ্রুত সমাধান না হলে আরও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুতের ঘাটতি এবং চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় সাময়িকভাবে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে এবং দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ উন্নত করার চেষ্টা চলছে বলে তারা জানান।
তবে দুই উপজেলার সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, প্রতিশ্রুতির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে, যাতে দীর্ঘদিনের বিদ্যুৎ দুর্ভোগ থেকে রৌমারী ও রাজিবপুরবাসী স্থায়ীভাবে মুক্তি পান।
আরও খবর: রৌমারীতে নববধূর রহস্যজনক মৃত্যু
Leave a Reply