
নিজস্ব প্রতিনিধি তারিকুল ইসলাম তারা: কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলা-এর কোদালকাটি ইউনিয়ন এলাকায় অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
দীর্ঘদিন ধরে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে আবাদি জমি, বসতভিটা ও নদীতীরবর্তী এলাকার পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কোদালকাটি ইউনিয়নের বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুর রহমান মাস্টার নিজেকে বিভিন্ন সময় মানবতার সেবক বা ‘মানবতার ফেরিওয়ালা’ হিসেবে উপস্থাপন করলেও পর্দার আড়ালে অবৈধ ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগ রয়েছে, নদীর পানি কমে গেলে তিনি লোক দেখানোর জন্য কিছু এলাকায় কাশবন রোপণ, কয়েকটি বাঁশ দিয়ে অস্থায়ী পারাপারের ব্যবস্থা এবং সীমিত পরিসরে জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করলেও অন্যদিকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মাধ্যমে এলাকার কৃষিজমি ও বসতবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অপরিকল্পিত ও অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হচ্ছে। এতে নদীভাঙন বেড়ে গিয়ে ফসলি জমি, গাছপালা এবং বহু পরিবারের বসতভিটা হুমকির মুখে পড়েছে। ভবিষ্যতে এ অবস্থা চলতে থাকলে পুরো এলাকার পরিবেশ ও জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়তে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
এ অবস্থার প্রতিবাদে শনিবার (২০ জুন) দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে কোদালকাটি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার শতাধিক নারী-পুরুষ মানববন্ধনে অংশ নেন। মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, মানবসেবার আড়ালে অবৈধ বালু ব্যবসা পরিচালনা করে এলাকার মানুষের ক্ষতি করা হচ্ছে।
বক্তারা বলেন, “অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের কারণে আমাদের আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ঘরবাড়িও হুমকির মুখে রয়েছে। দ্রুত এসব কার্যক্রম বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।”
মানববন্ধন থেকে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং জেলা প্রশাসনের কাছে অবিলম্বে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং কোদালকাটি ইউনিয়নের নদীভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
Leave a Reply