
নিজস্ব প্রতিবেদক ফজলুর রহমানঃ ৭২ ঘণ্টার বেশি সময়েও খোঁজ মেলেনি জেলার খানসামার আত্রাই নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ যুবক! দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার ৫নং ভাবকি ইউনিয়নের আগ্রা গ্রামের মাধবের খেয়াঘাট এলাকায় আত্রাই নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে নিখোঁজ যুবকের মরদেহ তিন দিন পেরিয়েও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
টানা ৭২ ঘণ্টারও বেশি সময় অতিবাহিত হলেও নিখোঁজ মরদেহের কোনো সন্ধান না মেলায় নিহতের পরিবারে চলছে শোকের মাতম,
আর এলাকাবাসীর মধ্যে বিরাজ করছে চরম ক্ষোভ ও হতাশা।
নিখোঁজ যুবকের নাম মজিদুল (২৮)। তিনি আগ্রা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মজিদের ছেলে।
যেভাবে দুর্ঘটনাটি ঘটে:
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে,গত বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় দিকে আত্রাই নদীর মাধবের খেয়াঘাট এলাকায় মাছ ধরছিলেন মজিদুল। এ সময় আকস্মিক বজ্রপাতের শিকার হয়ে তিনি নদীর পানিতে তলিয়ে যান।
উদ্ধার অভিযানে ব্যর্থতা ও স্বজনদের আহাজারি; ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলসহ সংশ্লিষ্ট উদ্ধারকারীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। তবে টানা তিন দিন ধরে আত্রাই নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে তল্লাশি চালালেও এখনো পর্যন্ত মজিদুলের মরদেহের কোনো সন্ধান মেলেনি। সময় যত গড়াচ্ছে, নিখোঁজ যুবকের স্বজনদের অপেক্ষার প্রহর আর আহাজারি তত দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। প্রিয়জনের শেষ স্মৃতিটুকু আগলে ধরার আকুতি এখন বাতাসে ভাসছে।
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে স্থানীয়দের প্রশ্ন ও ক্ষোভ
দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও মরদেহ উদ্ধার না হওয়ায় প্রশাসনের প্রস্তুতি,উদ্ধার কার্যক্রমের দক্ষতা ও সমন্বয় নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ:উদ্ধার কাজে আধুনিক প্রযুক্তির ঘাটতি রয়েছে। দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হলে পরিবারটিকে এত দীর্ঘ সময় অনিশ্চয়তায় ভুগতে হতো না। শুধু আনুষ্ঠানিক তৎপরতা না দেখিয়ে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত উদ্ধার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষিত জনবল বাড়ানো দরকার। স্থানীয়দের প্রশ্ন: “একজন মানুষের মরদেহ উদ্ধারে যদি ৭২ ঘণ্টারও বেশি সময় লেগে যায়,তাহলে অন্য যেকোনো বড় জরুরি পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?”এখন এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবারের একটাই আকুতি— প্রশাসন যেন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে মজিদুলের মরদেহটি উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে, যেন স্বজনরা তাকে শেষ বিদায় জানানোর ন্যূনতম সুযোগটুকু পান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
Leave a Reply