
আহসান হাবিব, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
পথের ধারে লাল আভায় মুগ্ধতা, প্রকৃতির রূপে বিমোহিত মানুষ
ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া উপজেলার পথঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও জনপদজুড়ে ফুটে থাকা কৃষ্ণচূড়ার রক্তিম ফুল যেন এনে দিচ্ছে এক টুকরো প্রশান্তি। দগ্ধ গরমের মাঝেও প্রকৃতি যেন নিজের রঙে নতুন করে সাজিয়েছে চারপাশ। সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে ফুটে থাকা লাল কৃষ্ণচূড়া দূর থেকে দেখলে মনে হয়, যেন সবুজের বুকে কেউ লাল রঙের আলপনা এঁকে দিয়েছে।
বুধবার (১৩ মে) রুহিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, রাস্তার দু’পাশ, হাট-বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি দপ্তর, এমনকি গ্রামের বাড়ির উঠানেও দৃষ্টিনন্দন রূপে ফুটে আছে কৃষ্ণচূড়া। গাছের ডালে ডালে থোকায় থোকায় লাল ফুল আর বাতাসে দোল খাওয়া ঝিরিঝিরি পাতার সৌন্দর্য সহজেই নজর কাড়ছে পথচারী, যাত্রী ও প্রকৃতিপ্রেমীদের।
বিশেষ করে রামনাথ হাট, কর্ণফুলী এলাকা, রেল স্টেশন রুহিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, রুহিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে কৃষ্ণচূড়ার গাছগুলো এখন যেন প্রকৃতির নিজ হাতে সাজানো রঙিন ছায়াতল। সড়ক দিয়ে চলাচলকারী মানুষ কিছুক্ষণের জন্য হলেও থেমে তাকাচ্ছেন এই সৌন্দর্যের দিকে। কেউ মোবাইল ফোনে ছবি তুলছেন, আবার কেউ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেই ছবি ও ভিডিও শেয়ার করে প্রশংসা করছেন প্রকৃতির এই অপরূপ সাজের।
গ্রীষ্মকালীন বৃক্ষের মধ্যে কৃষ্ণচূড়া অন্যতম আকর্ষণীয় একটি গাছ। এর রক্তিম ফুল প্রকৃতিকে যেমন রাঙিয়ে তোলে, তেমনি মানুষের মনেও ছড়িয়ে দেয় প্রশান্তির ছোঁয়া। কৃষ্ণচূড়ার এই উজ্জ্বল লাল রঙ যেন জীবনের সৌন্দর্য ও প্রাণচাঞ্চল্যের প্রতীক হয়ে ওঠে।
স্থানীয় প্রকৃতিপ্রেমী শাহজামাল বাবু বলেন,
“রক্তিম আলো শুধু সূর্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, সেই আলো ছড়িয়ে পড়ে কৃষ্ণচূড়ার ডালে ডালেও। যখন গাছে ফুল ফোটে, তখন পুরো পরিবেশ লাল-সবুজের এক অপূর্ব সৌন্দর্যে মুখর হয়ে ওঠে। এই সময়টাতে প্রকৃতিকে অন্যরকম লাগে। মনে হয়, প্রকৃতি নিজেই যেন হাসছে।”
তিনি আরও বলেন,
“অনেক মানুষ এখন এই গাছের নিচে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন, সময় কাটাচ্ছেন। ব্যস্ত জীবনের মাঝেও এই সৌন্দর্য মানুষকে কিছুটা হলেও স্বস্তি দেয়।”
কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থী মাহিন বলেন,
“গ্রামে থাকি বলেই প্রায়ই কৃষ্ণচূড়া গাছ দেখতে পাই। কিন্তু প্রতিবারই নতুন করে মুগ্ধ হই। এই ফুলের মধ্যে আলাদা একটা সৌন্দর্য আছে। কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকলেই মন ভালো হয়ে যায়, মনে প্রশান্তি আসে।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কৃষ্ণচূড়া প্রকৃতিকে শীতল অনুভূতি দেয়। শুধু সৌন্দর্য নয়, গাছ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই রাস্তার পাশে সৌন্দর্যবর্ধক বৃক্ষ ও ঔষধি গাছ লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
প্রকৃতিপ্রেমীদের মতে, শহর ও গ্রামের রাস্তার পাশে পরিকল্পিতভাবে কৃষ্ণচূড়াসহ বিভিন্ন ছায়াদানকারী গাছ লাগানো হলে পরিবেশ যেমন সুন্দর হবে, তেমনি তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। পাশাপাশি মানুষ প্রকৃতির কাছাকাছি আসার সুযোগ পাবে।
রুহিয়ার বিভিন্ন সড়কে এখন কৃষ্ণচূড়ার রক্তিম ছায়া যেন পথচলতি মানুষকে থমকে দাঁড়াতে বাধ্য করছে। ক্লান্ত দুপুর কিংবা বিকেলের নরম আলোয় ফুটে থাকা এই ফুল শুধু সৌন্দর্যই নয়, মানুষের মনে জাগিয়ে তুলছে ভালো লাগা, স্বস্তি আর প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা।
প্রকৃতির এই অপরূপ রূপ যেন একটাই বার্তা দিচ্ছে—যত বেশি গাছ, তত বেশি সৌন্দর্য, প্রশান্তি ও জীবনের নিরাপত্তা।
Leave a Reply