
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
চেক রেল স্থাপনে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত এক রেল কর্মকর্তাকে নিয়ে এবার প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রধান সংস্থাপন কর্মকর্তা (পূর্ব) এর কার্যালয় থেকে জারি করা এক দপ্তরাদেশে অভিযুক্ত কর্মকর্তা আনিসুজ্জামান রাজনকে বদলি ও অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে।
দপ্তরাদেশে একে ‘প্রশাসনিক স্বার্থে’ নেওয়া সিদ্ধান্ত বলা হলেও রেল সংশ্লিষ্ট ও সচেতন মহলের দাবি, টেলিভিশন চ্যানেলে দুর্নীতির অভিযোগ প্রচারের পরই প্রশাসন চাপের মুখে এ পদক্ষেপ নেয়।
আদেশ অনুযায়ী, (ভারপ্রাপ্ত) এসএসএই (ওয়ে), নরসিংদী হিসেবে ডিইএন-২ (ঢাকা)-এর অধীনে দায়িত্ব পালনরত আনিসুজ্জামান রাজনকে (ভারপ্রাপ্ত) এসএসএই (ওয়ে), কুমিল্লা পদে ডিইএন-১ (চট্টগ্রাম)-এর অধীনে বদলি করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে এসএসএই (ওয়ে), লাকসাম এর দায়িত্বও দেওয়া হয়।
২৮ জানুয়ারির মধ্যে যোগদান, নইলে অবমুক্ত দপ্তরাদেশে কঠোর ভাষায় উল্লেখ করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে ২৮ জানুয়ারি ২০২৬-এর মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে। নির্ধারিত সময় অতিক্রম হলে ২৯ জানুয়ারি থেকে বর্তমান কর্মস্থল হতে তাৎক্ষণিক অবমুক্ত হিসেবে গণ্য করা হবে। এত দ্রুত সময়সীমা নির্ধারণ প্রশাসনের অস্বাভাবিক তৎপরতাকেই নির্দেশ করে বলে মনে করছেন অনেকে।
টিভিতে সংবাদ, ২৪ ঘণ্টায় চেক রেল অপসারণ উল্লেখ্য, চেক রেল স্থাপনে বিধি-বিধান লঙ্ঘন ও দুর্নীতির অভিযোগে আনিসুজ্জামান রাজনকে ঘিরে একাধিক টেলিভিশন চ্যানেলে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন সম্প্রচারিত হয়। অভিযোগে বলা হয়, প্রকৌশল মানদণ্ড উপেক্ষা করে অবৈধভাবে চেক রেল স্থাপন করা হয়েছিল, যা রেল চলাচলের নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে।
সংবাদ প্রচারের পর মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বিতর্কিত চেক রেল অপসারণ করা হয়। এত দ্রুত অপসারণকে অনেকেই অভিযোগের গুরুত্ব ও বাস্তবতার প্রমাণ হিসেবে দেখছেন। তবে পুরো ঘটনায় দায় স্বীকার বা ব্যাখ্যা দিতে এখনো পর্যন্ত অভিযুক্ত কর্মকর্তা কিংবা রেল প্রশাসনের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বদলিই কি শেষ সমাধান?
রেল অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে—গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগের পর বদলিই কি যথেষ্ট ব্যবস্থা? কেন এখনো কোনো দৃশ্যমান তদন্ত কমিটি বা শাস্তিমূলক পদক্ষেপের ঘোষণা আসেনি, তা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। অনেকের মতে, বদলির মাধ্যমে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার পুরনো কৌশলই আবার অনুসরণ করা হচ্ছে।
উক্ত আদেশ প্রধান প্রকৌশলী (পূর্ব) মহোদয়ের নির্দেশক্রমে জারি করা হয়। এতে স্বাক্ষর করেন— (মোঃ মহিউদ্দীন সোহেল) জুনিয়র পার্সোনেল অফিসার-১ (পূর্ব) (অতিরিক্ত দায়িত্ব) বাংলাদেশ রেলওয়ে, সিআরবি, চট্টগ্রাম।
এ আদেশের অনুলিপি ডিআরএম, ডিইএন, ডিপিও, ডিএফএসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহে পাঠানো হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে হিন্দু পরিবারের ১১ একর জমি উদ্ধার ও নিরাপত্তাহীনতায় সংবাদ সম্মেলন
Leave a Reply