
মোঃ নাজিম উদ্দিন, মেঘনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধিঃ-
কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায় একসময় সংবাদপত্রের পাঠকসংখ্যা ছিল আশপাশের অনেক উপজেলার তুলনায় বেশি। নিয়মিত পাঠকের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলেও দৈনিক পত্রিকা পৌঁছে যেত। তবে সময়ের সঙ্গে সেই চিত্র বদলে গেছে। এর প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে মেঘনা উপজেলা থেকে ভাটেরচর সড়কের প্রায় সাড়ে ৯ কিলোমিটার অংশের বেহাল অবস্থা। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী থাকায় এখন সেখানে পত্রিকার হকার পাওয়া যাচ্ছে না।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বৃহত্তর কুমিল্লা জেলার পত্রিকার ডিলার মোহাম্মদ আলী বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে পত্রিকা সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত। তবে হকারের অভাবে বর্তমানে মেঘনা উপজেলায় পত্রিকা পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না। একটা সময় মেঘনা উপজেলায় প্রচুর পত্রিকা যেত, পাঠকসংখ্যাও ছিল সন্তোষজনক। কিন্তু এখন রাস্তার বেহাল দশার কারণে হকার খুঁজে পাওয়া যায় না।”
তিনি আরও বলেন, “শুনেছি ওই রাস্তায় দীর্ঘদিন ধরে মেরামতের কাজ চলছে। যদি কাজ শেষ হয়, তাহলে বেতন দিয়ে হলেও একজন হকার রাখবো। আর যদি এখনই হকার পাওয়া যায়, তাহলেও নিয়ে নিবো। মেঘনাতে আবার আগের মতো সংবাদপত্রের পাঠকসংস্কৃতি জাগিয়ে তুলতে চাই।”
এদিকে পাঠকদের অভিজ্ঞতাও মিলে যাচ্ছে এই সমস্যার সঙ্গে। চন্দনপুর বাজারের পল্লী চিকিৎসক জসীম উদ্দিন বলেন, “আমি নিয়মিত সংবাদপত্র পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলেছিলাম। কিন্তু প্রায় পাঁচ বছর ধরে আমাদের এলাকায় কোনো পত্রিকা পৌঁছায় না। রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে হকার আসতে চায় না। এখন মোবাইলের খবরে নির্ভর করতে হয়, কিন্তু কাগজের পত্রিকা পড়ার যে স্বাদ ও বিশ্বাসযোগ্যতা, তা সেখানে পাই না।
মানিকারচর বাজারে অবস্থিত “মেঘনা জেনারেল হাসপাতালের” পরিচালক মোসাঃ সাথী আক্তার বলেন,
“একসময় প্রতিদিনই হাসপাতালে একাধিক দৈনিক পত্রিকা আসত। রোগী, স্বজন ও স্টাফরা সেগুলো পড়তেন। কিন্তু প্রায় চার-পাঁচ বছর ধরে পত্রিকা আসা বন্ধ। এর পেছনে একমাত্র কারণ এই সড়কের করুণ অবস্থা। একটি উপজেলার মানুষ যখন নিয়মিত সংবাদপত্র থেকে বঞ্চিত হয়, তখন সেটি শুধু যোগাযোগ সমস্যাই নয়, এটি তথ্য ও সচেতনতার সংকট।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মেঘনা উপজেলা প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার শহিদুল ইসলাম বলেন, “আশা করছি এই রাস্তাটির মেরামতকাজ খুব শিগগিরই সম্পন্ন হবে।
আরও পড়ুন নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর — ঢাকা রেঞ্জ ডিআইজি
Leave a Reply