
নালিতাবাড়ী শেরপুর প্রতিনিধি
শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার নন্নী ইউনিয়নের উদলাকুচি এলাকায় সৎ ভাইয়ের বিরুদ্ধে প্রতারণা, হুমকি ও হয়রানির অভিযোগ ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ইতালি নেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে জমি লিখে নেওয়া ও পরে প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করার অভিযোগে ভুক্তভোগী রিপন মিয়া (৩৫) থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ঘটনার বিষয়ে বাড়ির প্রতিবেশী শাহজালালের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন,
সুজন আর রিপন সৎ ভাই হলেও তাদের সম্পর্ক ছিল এক মায়ের পেটের ভাইয়ের মতো। সুজনের অনুমতি ছাড়া রিপন আগে কোনো কাজই করত না। হঠাৎ করে আজ তাদের মধ্যে এই গণ্ডগোল সৃষ্টি হয়েছে। ইটগুলোর প্রকৃত মালিক সুজন। এসব ইট তার বাবা আদম আলী কিনেছিলেন। পরে অর্থের সংকটে পড়ে ইটগুলো বিক্রি করে দেন। তখন আমি সুজনকে বলি ইটগুলো কেটে রাখতে। পরে সুজন তার কাকার কাছ থেকে ইটগুলো কিনে রাখে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নন্নী ইউনিয়নের উদলাকুচি গ্রামের বাসিন্দা রিপন মিয়াকে তার সৎ ভাই, ওমান প্রবাসী সুজন মিয়া ইতালি নিয়ে যাওয়ার আশ্বাস দেন। সেই প্রলোভনে পড়ে নন্নী বাজার সংলগ্ন রাস্তার পাশে অবস্থিত সাড়ে চার শতাংশ জমি নামমাত্র ৬ লাখ টাকায় লিখে দেন রিপন। তবে জমি লিখে নেওয়ার পর সুজন মিয়া তাকে বিদেশে না নিয়ে প্রতারণা করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
ভুক্তভোগী রিপন মিয়া বলেন,
জমি লিখে দেওয়ার পর আমাকে ইতালি নেয়নি। আমি এখন সর্বস্বান্ত। উল্টো সুজনের স্ত্রী লাভলী খাতুন আমাকে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছেন ও হয়রানি করছেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার ক্রয়কৃত সাড়ে চার হাজার ইট জোরপূর্বক নিজেদের বলে দাবি করা হচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত সুজন মিয়ার স্ত্রী লাভলী খাতুনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,
রিপন স্বেচ্ছায় টাকা নিয়ে জমি বিক্রি করেছে। বিদেশে নেওয়ার কথা বলে জমি নেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়। বরং সে আমাদের কাছে বিক্রি করা সাড়ে চার হাজার ইট এখন অন্যত্র বিক্রি করেছে।
এ বিষয়ে রিপনের বাবা মো. আদম আলী বলেন,
“আমাকে না জানিয়ে সুজন গোপনে রিপনের কাছ থেকে জমি লিখে নিয়েছে। ইতালি নিয়ে যাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তাকে পথে বসিয়েছে। এমনকি আমাকেও হত্যার হুমকি দিয়েছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারাও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত। নন্নী ইউনিয়ন বিএনপির নেতা নজরুল ইসলাম বলেন,
রিপন মিয়া অত্যন্ত ভদ্র ও সামাজিক একজন মানুষ। এলাকায় তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই। আমার জানা মতে, তার সৎ ভাই সুজন মিয়া তাকে ইতালি নেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে জমি লিখে নিয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
নন্নী ইউনিয়ন যুবদলের নেতা মাহমুদুল হাসান রুবেল বলেন,
ঘটনার দিন আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম। কোনো মারামারি হয়নি, তবে উভয়ের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক হয়েছিল।
স্থানীয় বাসিন্দা ও দলিলের সাক্ষী বিল্লাল হোসেন বলেন,
আমি জমি দলিল করার সময় সাক্ষী ছিলাম। সুজন ইতালি নিয়ে যাওয়ার কথা বলে রিপনের কাছ থেকে জমি লিখে নেয়। প্রকৃতপক্ষে তাকে মাত্র ২ লাখ টাকা ও একটি মোটরসাইকেল দেওয়া হয়েছিল।
এ বিষয়ে নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল জার্মান বলেন,
অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Leave a Reply