
মোঃ আতিক উল্লাহ চৌধুরী রাউজান, প্রতিনিধি।
গতকাল ২০ ডিসেম্বর, শনিবার, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ রাউজান উপজেলার সাধারণ সম্পাদক মাও শফিউল আলমের সভাপতিত্বে মুহিউসসুনাহ তাজবীদুল কুরআন মাদরাসা হেফজখানা ও এতিমখানার বার্ষিক মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানটি শুরু হয় পবিত্র কোরআন তেলওয়াতের মাধ্যমে, যা মাদরাসা প্রাঙ্গণ জুড়ে এক দৃষ্টিনন্দন এবং সুশৃঙ্খল পরিবেশের সৃষ্টি করে। কোরআন তেলওয়াতের পর তাৎক্ষণিক আলোচনার মাধ্যমে মাহফিলের প্রথম পর্ব সমাপ্ত হয়।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রভাষক প্রফেসর ড. জামাল উদ্দীন আহমদ, যিনি শিক্ষার প্রতি অবদানের জন্য মাদরাসার শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদেরকে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের ওসি জনাব মোঃ হেলাল উদ্দীন ফারুকী, যিনি এলাকায় আইন শৃঙ্খলা ও শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের প্রতি দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
বক্তব্য রাখেন কদলপুর হামিদিয়া এম.এ কামিল মাদরাসার সহকারী অধ্যাপক আলহাজ্ব আল্লামা মনজুরুল ইসলাম আলকাদেরী, যিনি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইসলামী জ্ঞানার্জন ও নৈতিক শিক্ষার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন। মাহফিলে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জিরি মাদরাসার সিনিয়র শিক্ষক হাফেজ মাওলানা হোসাইন আল মাহমুদ, হাফেজ মাওলানা নুরুল্লাহ সাহেব, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব মাওলানা ক্বারী মনজুরুল আলম এবং আবুবক্রীয়া জামে মসজিদ, মদুনাঘাট, হাটহাজারী, চট্টগ্রামের খতিবরা।
মাহফিলে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন কৃতিত্বপূর্ণ বিষয় উপস্থাপন করে, হিফজখানার শিক্ষার্থীরা কোরআনের আয়াত তেলওয়াত করেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে তা বিশ্লেষণ করা হয়। এছাড়া এতিমখানার শিক্ষার্থীরা দোয়া ও মুনাজাতের মাধ্যমে মাহফিলের অংশ হিসেবে উপস্থিত অতিথি ও সমাজের কল্যাণের জন্য প্রার্থনা করেন। বাদ আছর থেকে মাহফিলে শুরু হয় তাকরীর, কোরআন তেলওয়াত, দোয়া ও মুনাজাত, যার মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি সুশৃঙ্খলভাবে সমাপ্ত হয়।
মাহফিলে বিশেষভাবে প্রার্থনা করা হয় শিক্ষার্থীদের হিফজ ও শিক্ষাজীবনের সাফল্য, এতিমদের কল্যাণ, এলাকার শান্তি ও নিরাপত্তা এবং ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতির জন্য। উপস্থিত অতিথিরা সকলেই শিক্ষার্থীদের প্রতি স্নেহ এবং সহযোগিতার আহ্বান জানান।
মাও শফিউল আলম অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে বলেন, “মুহিউসসুনাহ তাজবীদুল কুরআন মাদরাসা শুধু শিক্ষার কেন্দ্র নয়, এটি নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষার প্রতীক। আমরা চাই আমাদের ছাত্র-ছাত্রীরা শুধু হাফেজই হবে না, বরং নৈতিকভাবে দৃঢ় ও সমাজে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে বড় হবে।”
উল্লেখ্য, মাহফিলে উপস্থিত সবাই অনুষ্ঠানটির সুন্দর আয়োজন ও শিক্ষার্থীদের পারফরম্যান্সকে প্রশংসা করেন এবং মাদরাসার পরিচালনা কমিটির প্রতি ধন্যবাদ জানান।
Leave a Reply