
নিজস্ব প্রতিনিধি তারিকুল ইসলাম তারা:
কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলার মোহনগঞ্জ ইউনিয়নর নয়াচর আজমিরপাড়া এলাকায় বজ্রপাতে এক কৃষিশ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২৯ জুন) সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে কৃষিকাজ করার সময় আকস্মিক বজ্রাঘাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত কৃষিশ্রমিকের নাম হাফিজুর রহমান। তিনি এলাকার বাসিন্দা মো. নুরু মিয়ার বড় ছেলে। স্থানীয়ভাবে তিনি একজন পরিশ্রমী, সৎ ও কর্মঠ মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
পরিবারের জীবিকা নির্বাহের জন্য প্রতিদিনের মতো সেদিনও তিনি অন্যের জমিতে কৃষিকাজ করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু প্রকৃতির নির্মম রোষে তার সেই কর্মযাত্রাই জীবনের শেষ যাত্রায় পরিণত হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল থেকেই আকাশে মেঘের আনাগোনা থাকলেও জীবিকার তাগিদে হাফিজুর রহমান মাঠে কাজ করছিলেন। কাজ চলাকালে হঠাৎ বিকট শব্দে বজ্রপাত হলে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। আশপাশে থাকা অন্যান্য কৃষিশ্রমিক ও স্থানীয়রা দ্রুত ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করার চেষ্টা করেন। তবে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হওয়ায় সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।
এই হৃদয়বিদারক সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর নিহতের বাড়িতে স্বজন, প্রতিবেশী ও এলাকাবাসীর ভিড় জমে। পরিবারের সদস্যদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। একজন উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে পরিবারটি এখন গভীর শোক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।
স্থানীয়রা জানান, বর্ষা মৌসুমে বজ্রপাতের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই কৃষকদের আবহাওয়া খারাপ হলে খোলা মাঠে কাজ না করার বিষয়ে আরও বেশি সচেতনতা প্রয়োজন। তারা বজ্রপাতের ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
হাফিজুর রহমানের অকাল মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তার রূহের মাগফিরাত কামনা করেছেন।
দোয়া ও সমবেদনা:
মরহুম হাফিজুর রহমানের রূহের মাগফিরাত কামনা করছি। মহান আল্লাহ তাআলা তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন, তার সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এই কঠিন শোক ধৈর্যের সঙ্গে বহন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
আরও খবর: দিনাজপুরে ২০২৬ ব্যাচের আইনজীবীদের পুনর্মিলনী ও কেক কাটা সম্পন্ন
Leave a Reply