
সামরুল হক, স্টাফ রিপোর্টার:
জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৯০ বোতল ভারতীয় মদসহ দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। উদ্ধারকৃত মদের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন বকশীগঞ্জ উপজেলার বাট্টাজোড় ইউনিয়নের পশ্চিমপাড়া গ্রামের সোবহান তালুকদারের ছেলে তাবিবুর রহমান তালুকদার (২৮) এবং একই উপজেলার পলাশতলা গ্রামের মোখলেস তালুকদারের ছেলে রিদুয়ান বারী তালুকদার (৩৫)।
রোববার (২১ জুন) দুপুরে জামালপুর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জামালপুর জেলা পুলিশের চলমান মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি-১) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ২০ জুন শনিবার বিকেলে জামালপুর-বকশীগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের বকশীগঞ্জ উপজেলার পাখিমারা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় সন্দেহজনকভাবে মদ পরিবহনের সময় দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।
পরবর্তীতে তাদের দেহ ও সঙ্গে থাকা মালামাল তল্লাশি করে ৯০ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকেই তাদের গ্রেফতার করা হয়। উদ্ধারকৃত মদের আনুমানিক মূল্য প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে ডিবি পুলিশ।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গোয়েন্দা পুলিশের কাছে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেফতারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকা থেকে অবৈধভাবে মাদকদ্রব্য সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ ও পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আরও তথ্য সংগ্রহ এবং সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্ক শনাক্তে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে রোববার দুপুরে তাদের জামালপুর আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জামালপুর জেলা পুলিশ সুপার মোছা. ফারহানা ইয়াসমিন বলেন, “মাদকমুক্ত জামালপুর গড়ে তোলার লক্ষ্যে জেলা পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। মাদক ব্যবসায়ী, চোরাকারবারি ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। সীমান্ত এলাকা ব্যবহার করে যারা অবৈধভাবে মাদক ও নিষিদ্ধ পণ্য দেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মাদক নির্মূলে জেলা পুলিশ সর্বদা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে এবং এ বিষয়ে জনগণের সহযোগিতা কামনা করছি।”
জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। সীমান্তঘেঁষা এলাকাগুলোতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি মাদক পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
Leave a Reply