
জয়ন্ত সাহা যতন, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি:
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে প্রবাসীসহ ২০টি পরিবারের যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসময় মালয়েশিয়া ও সৌদি প্রবাসীর বাড়ীঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ করা হয়।
সোমবার (১ জুন) দুপুরে উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের মধ্যবেলকার সুন্দরগঞ্জ-মওলানা ভাসানী সেতু সড়কের ফারুকের মোড় এলাকায় ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন কর্মসূচির পালন করে ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, ভুক্তভোগীদের মধ্যে মালয়েশিয়া প্রবাসী মিজবাহুর রহমান, স্থানীয় শামছুল হক, লাভলু মিয়া, মুকুল মিয়াসহ আরও অনেকে।
বক্তারা বলেন, প্রতিবেশী ছায়েদ আলী, মনজু মিয়া, শাহ আলম, সাহাবুদ্দিনসহ তাদের স্বজন ও সহযোগীরা যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ করে দেয়। এতে প্রায় ২০টি পরিবারকে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। চলাচলের রাস্তা না থাকায় শিক্ষার্থীদের লেখা-পড়াসহ শতাধিক মানুষের কৃষি জমিতে যাতায়াত ও জীবন যাপন কঠিন হয়ে পড়েছে। সেইসঙ্গে মালয়েশিয়া প্রবাসী মিজবাহুর রহমানের বাড়ীঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের ফলে পরিবারসহ তারা দীর্ঘদিন ধরে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হলেও কোনো কার্যকর ফল পাওয়া যায়নি। বক্তারা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে প্রবাসী মিজবাহুর রহমান বলেন, তিনি তার ভাই মিজানুর রহমান ও মাজহারুল ইসলাম দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন। পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করাসহ অভিযুক্তরা তাদের পৈতৃক সম্পত্তি নিজেদের বলে দাবি করে বিরোধ সৃষ্টি করে আসছেন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, গত ৬ ফেব্রুয়ারি সকালে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তার বাবা আব্দুল মতিন এবং ভাতিজা সৌরভের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। ঘটনার প্রতিবাদ করলে অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধ সশস্ত্র হামলা চালিয়ে বাড়িঘরে ব্যাপক ভাঙচুর করে। সেইসাথে ১৬টি ফ্রিজিয়ান জাতের গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগি, মোটরসাইকেল, স্বর্ণালংকার, নগদ অর্থসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এছাড়া জমির দলিল, কীটনাশক ব্যবসার লাইসেন্স, ব্রিডিং লাইসেন্স, ব্যাংক সংক্রান্ত কাগজপত্র এবং পরিবারের বিভিন্ন সদস্যের পরীক্ষার সনদপত্রও নিয়ে যায়। এতে প্রায় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে দাবি ভুক্তভোগীর।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর উল্টো তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। মামলার ভয় ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে পরিবারগুলো বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। এই সুযোগে বাড়িতে থাকা অবশিষ্ট মালামালও লুট করে নেওয়া হয়। সর্বশেষ অভিযুক্তরা তাদের বাড়িতে প্রবেশের একমাত্র যাতায়াতের রাস্তা টিন দিয়ে ঘিরে বন্ধ করে দেয়। এতে শিশু, নারী ও বয়স্কসহ পরিবারের সদস্যরা দুর্ভোগে পড়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ছায়েদ আলী, মনজু মিয়া, শাহ আলম ও সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও না পাওয়া যাওয়ায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ ঘটনার তদন্তকারী কর্মকর্তা সুন্দরগঞ্জ থানার এসআই সাইফুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি তদন্তাধিন রয়েছে।
Leave a Reply