
রাজিবপুর উপজেলা প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলায় প্রধানমন্ত্রী উপহার তথা সরকারি
আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে ঘুষ নেওয়া ও বাদীর বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারকে
মারধর করার অভিযোগ উঠেছে এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। অসহায় এই পরিবারের কাছ থেকে
একটি ঘর দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রায় গত দের বছর আগে ১০ হাজার টাকা নেন ওই ইউপি
সদস্য। সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, রাজিবপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের বালিয়ামারী আদর্শ
গ্রামের আহাদ আলীর কাছ থেকে ঘুষ নেন একই গ্রামের ১নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য ফরিজল হক।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় গত দেড় বছর আগে প্রধানমন্ত্রী উপহার তথা সরকারি আশ্রয়ণ
প্রকল্পে ঘর দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সাবেক ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম, চান মিয়া ও শফিকুল
ইসলামের উপস্থিতিতে ১০ হাজার টাকা ঘুষ নেন ইউপি সদস্য। অনেকে ঘর পাইলেও ভুক্তভোগী
আহাদ আলীর পরিবার পায়নি সরকারের দেওয়া আশ্রয়ণের ঘর। পরে ভুক্তভোগী জানতে পারেন
সরকারি এই ঘর পেতে কোনো প্রকার টাকা লাগে না। ঘর না পেয়ে প্রতিশ্রুতির টাকা ফেরত চান
ভুক্তভোগী। টাকা ফেরতের বিষয়ে একাধীক বার স্থানীয় ভাবে গ্রাম্য সালিশী বৈঠকে টাকা ফেরত
দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন ওই ইউপি সদস্য। এ দিকে টাকা দেই দিচ্ছি বলে নানা অজুহাত দেখিয়ে গত
২৫ মে আনুমানিক সন্ধার দিকে বাদি আহাদ আলীর বাড়িতে গিয়ে ইউপি সদস্যের পরিবারের
সদস্যরা মারধার করে চলে আসেন। বিধায় কোনো উপায় না পেয়ে টাকা ফেরত ও মারধরের
সুবিচার পাওয়ার জন্য ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি লিখিত
অভিযোগ দেন আহাদ আলী।
এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী আহাদ আলী বলেন, সরকারি ঘর দেওয়ার কথা বলে আমার কাছ থেকে ১০
হাজার টাকা নিয়েছে। পরে শুনি সরকারি এই ঘরের জন্য কোন টাকা-পয়সা লাগে না। পরে টাকা
ফেরত চাইলে তিনি বিভিন্ন ভাবে হুমকি ধামকি দেন। আবার আমার বাড়িতে এসে পরিবারকে মারধর
করে। আমি এর সঠিক বিচার চাই। সাবেক ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম জানান, কয়েক জনের
উপস্থিতে টাকা দেওয়া হয়েছে। টাকা ফেরতের বিষয় একাধীক বার বৈঠক হয়েছে টাকা ফেরত দিবে।
তবে কেনো দিচ্ছে না আমি বলতে পারবো না।
এ বিষয়ে বর্তমান ইউপি সদস্য ফরিজল হকের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া
যায়নি। এ ব্যাপারে রাজিবপুর সদর ইউপি চেয়ারম্যান মিরন মোহাম্মদ ইলিয়াস বলেন,অভিযোগের
অনুলিপি পেয়েছি,তবে ভিজিটির চাল বিতরণ নিয়ে ব্যস্ত আছি এজন্য তদন্তে যাওয়া হয়নি।
রাজিবপুর উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী অফিসার এবিএম সারোয়ার রাব্বী বলেন, অভিযোগ পত্র হাতে
পেলে খোঁজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Leave a Reply