
মনপুরা উপজেলা প্রতিনিধিঃ
ভোলার মনপুরা উপজেলার একমাত্র সরকারি হাসপাতাল মনপুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। উক্ত হাসপাতালে দালাল, সিন্ডিকেট, চিকিৎসা সামগ্রী তসরূপ, ১২ লক্ষ টাকার এম এস আর পণ্য ক্রয়ে অনিয়ম ও রোগীদের খাবার সিন্ডিকেটসহ নানা অনিয়ম নিয়ে ধারাবাহিক একের পর এক সংবাদ প্রকাশের পর আজও ঘুম ভাঙ্গেনি স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের।
সুবিধাবঞ্চিত দ্বীপ মনপুরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বছরে শত কোটি টাকা ব্যয় করে সরকার। এরপরেও হাসপাতালটির সেবার মান নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ এ দ্বীপের সাধারণ মানুষের। স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তেমন কোন নজরদারি নেই উক্ত হাসপাতালটিতে। হাসপাতাল সিন্ডিকেট নিয়ে অনুসন্ধানে জানা যায়, কোন চাকরি না থাকার পরেও মনপুরা হাসপাতালে আজও অফিস সহকারী পদ দখল করে আছেন যুবলীগ নেতা কাদের। গত আওয়ামী সরকারের ক্ষমতা দেখিয়ে মনপুরা হাসপাতালে অফিস সহকারী পদ দখল করেন এই কাদের।
অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতাল সিন্ডিকেট, রোগীদের টেস্ট বাণিজ্য, দালাল চক্র নিয়ন্ত্রণ, সকল বিল ভাউচার থেকে ২৫℅ কমিশন খাওয়াসহ নানা অনিয়মের সাথে জড়িত এই কাদের। অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, হাসপাতালের হিসাব সহকারী মাহমুদুর রহমান নিজে অফিস না করে, তার সমস্ত দায়িত্ব অভিযুক্ত যুবলীগ নেতা কাদেরকে দিয়ে অফিস কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
যুবলীগ নেতা কাদের মনপুরা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন মিয়ার ভাগিনা। উল্লেখ্য, হাসপাতালের অফিস নিয়ন্ত্রণকারী অভিযুক্ত কাদের একটি বেসরকারি এনজিও তে কর্মরত ছিলেন, তবে বর্তমানে ওই এনজিওতে আর কর্মরত নেই অভিযুক্ত যুবলীগ নেতা কাদের।
কাদের এর সিন্ডিকেট নিয়ে জানতে চাইলে মনপুরা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডাঃ কবির সোহেল সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ব্যস্ততা দেখিয়ে লাইন কেটে দেন। উক্ত বিষয়ে সিভিল সার্জন ভোলা জানান, এভাবে কোন ব্যক্তি চাকরি না থাকার পরেও হাসপাতালের অফিস নিয়ন্ত্রণ করার কোন নিয়ম নেই। এই কাদেরের আমি খোঁজ খবর নিচ্ছি। অচিরেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বিষয়টি নিয়ে বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানান, সরকারি চাকরি ব্যতীত কোন ব্যক্তি দ্বারা অফিস পরিচালনার কোনো সুযোগ নেই। আমি বিষয়টি এই মাত্র জানলাম, খুব শীঘ্রই এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, মনপুরা হাসপাতালে জনবল সংকটের দোহাই দিয়ে এভাবেই মনপুরা হাসপাতালের অফিস নিয়ন্ত্রণ করে রেখেছেন অভিযুক্ত যুবলীগ নেতা কাদের। প্রশ্ন রয়েছে, হাসপাতালে অফিসের হিসাব সরকারি পদে কর্মরত মাহমুদুর রহমান এবং আউটসোর্সিং এর প্রায় ২০ জন কর্মচারী নিয়োগপ্রাপ্ত। এরপরেও উক্ত নিয়োগ প্রাপ্ত ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে এমন অজানা ব্যক্তি দ্বারা হাসপাতালের অফিস পরিচালনা করায় রয়েছে বড় ধরনের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা। যদি বড় ধরনের ক্ষতি হয়, কে নিবে এই দায়? এমন নানা কৌতুহলের প্রশ্ন নিয়ে চলছে আমাদের গভীর অনুসন্ধান, তথ্য দিয়ে সহায়তা করুন। বিস্তারিত থাকছে দ্বিতীয় পর্বে।
আরও পড়ুনঃ ছুটির দিন সন্ধ্যায় ও নাসিরনগর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উড়ছে জাতীয় পতাকা
Leave a Reply