
নিজস্ব প্রতিনিধি: তারিকুল ইসলাম তারা: কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলায় পেট্রোল, ডিজেল ও অকটেনের তীব্র সংকট দেখা দেওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন মোটরসাইকেল চালক ও কৃষকরা। প্রয়োজনের তুলনায় খুচরা ডিলারদের কাছে কম পরিমাণ জ্বালানি সরবরাহ হওয়ায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় তেলের সংকট দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে।
বুধবার (১৮ মার্চ) সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অনেক খুচরা দোকানে পর্যাপ্ত জ্বালানি না থাকায় বাইক চালক ও কৃষকদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। কোথাও আবার তেল না পেয়ে অনেকেই হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি ডিলারদের কাছ থেকে খুচরা বিক্রেতারা যে পরিমাণ জ্বালানি পান তা এলাকার চাহিদার তুলনায় অনেক কম। ফলে বাজারে সংকট তৈরি হয়েছে এবং কিছু জায়গায় বেশি দামে জ্বালানি বিক্রির ঘটনাও ঘটছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার বিভিন্ন খুচরা দোকানে পেট্রোল বিক্রি হচ্ছে প্রতি লিটার ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা দরে, যা সাধারণ মানুষের জন্য বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে যারা প্রতিদিন মোটরসাইকেল ব্যবহার করে জীবিকা নির্বাহ করেন, তাদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের শিবের ডাঙ্গী এলাকায় অবস্থিত ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজ-এ তুলনামূলক কম দামে অকটেন বিক্রি হতে দেখা যায়। সেখানে প্রতি লিটার অকটেন বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকা দরে।
এ কারণে সকাল থেকেই ওই প্রতিষ্ঠানের সামনে মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। অসংখ্য মোটরসাইকেল চালক তাদের বাইক নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহের জন্য অপেক্ষা করছেন। একই সঙ্গে হাতে টেংকি নিয়ে অনেক কৃষককেও ভিড় করতে দেখা যায়।
স্থানীয় এক মোটরসাইকেল চালক বলেন, “উপজেলার অনেক জায়গায় তেলের সংকট চলছে। কোথাও ১৫০-১৬০ টাকা দরে পেট্রোল বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু এখানে ১৩০ টাকায় অকটেন পাওয়া যাচ্ছে বলে কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছি।”
একজন কৃষক জানান, “এখন জমিতে সেচ দেওয়ার সময়। ডিজেল বা তেল না পেলে সেচ দেওয়া সম্ভব হয় না। তাই বাধ্য হয়ে আমরা লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ করছি।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দ্রুত পর্যাপ্ত পরিমাণ জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত না করা হলে কৃষি কাজ ও পরিবহন ব্যবস্থায় বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে কৃষি মৌসুমে ডিজেলের সংকট হলে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত নজরদারি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের মতে, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই কমে আসবে এবং কৃষি ও পরিবহন কার্যক্রম আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।
Leave a Reply