
নিজস্ব প্রতিনিধি তারিকুল ইসলাম তারা: মাদক, চোরাচালান ও সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির ঘোষণায় কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভায় উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা, মাদক নিয়ন্ত্রণ, চোরাচালান প্রতিরোধ, সামাজিক অপরাধ দমন, বাজার মনিটরিং জোরদার, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধসহ জননিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
২৫ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) বিকেল ৩টায় উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ এফ এম শামীম।
প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে অপরাধ দমনের অঙ্গীকার
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ এফ এম শামীম বলেন,
“রাজিবপুর উপজেলাকে একটি শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সম্মিলিত সহযোগিতা অপরিহার্য।
কোনো ধরনের অপরাধ, মাদক ব্যবসা, চোরাচালান কিংবা সামাজিক বিশৃঙ্খলা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।”তিনি আরও বলেন, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত মনিটরিং জোরদার করা হবে। সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ ও প্রশাসনকে আরও তৎপর থাকতে হবে। একই সঙ্গে সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
মাদক, বাল্যবিবাহ ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধে বিশেষ গুরুত্ব
সভায় বক্তারা মাদক নির্মূলকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বক্তারা বলেন, মাদক শুধু ব্যক্তি নয়—সমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংস করছে। তাই মাদকের সঙ্গে জড়িত কাউকে কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, নারী ও শিশু নির্যাতন বন্ধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইনগত ব্যবস্থা জোরদারের কথা বলা হয়।
সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান রোধে কঠোর অবস্থান
সভার আলোচনায় সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে চোরাচালান রোধে বিজিবি, পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অবৈধ পণ্য পরিবহন ও চোরাচালানের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
রাজনৈতিক দল ও জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতার আহ্বান
সভায় উপস্থিত রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। বক্তারা বলেন, রাজনৈতিক মতাদর্শ ভিন্ন হলেও আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তার প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সায়েকুল হাসান,
অফিসার ইনচার্জ (ওসি), রাজিবপুর থানা মুছা মিয়া,
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোখলেছুর রহমান,
উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুল হাই সরকার,
উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির আবুল বাশার আব্দুল লতিফ,
অধ্যক্ষ মাহাবুবুর রশীদ মন্ডল,
ক্যাম্প কমান্ডার, বালিয়ামারী বিজিবি ক্যাম্প শরিফুল ইসলাম,
চেয়ারম্যান, রাজিবপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদ মিরন মোহাম্মাদ ইলিয়াস,
চেয়ারম্যান, মোহনগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ আনোয়ার হোসেন।
এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা সভায় অংশগ্রহণ করেন।
গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ
সভা শেষে উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত রাখতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে— নিয়মিত বাজার মনিটরিং মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার চোরাচালান প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ
সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে জনপ্রতিনিধিদের নিবিড় সমন্বয় সভা সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাজিবপুর উপজেলায় শান্তি-শৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় হবে।
আরও খবর : পুকুর খননের মাটি দিয়ে সড়কপাশ ভরাট:স্থানীয়দের উদ্বেগ
Leave a Reply