
নিজস্ব প্রতিনিধি তারিকুল ইসলাম তারা : উত্তরবঙ্গজুড়ে শীতের দাপট চরম আকার ধারণ করেছে। হিমালয় থেকে নেমে আসা কনকনে ঠান্ডা হাওয়া ও ঘন কুয়াশায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন।
বিশেষ করে সীমান্তঘেঁষা কুড়িগ্রামের রাজিবপুর ও রৌমারী উপজেলায় গত এক সপ্তাহ ধরে সূর্যের দেখা মিলছে না। দিনের বেশিরভাগ সময় কুয়াশায় ঢেকে থাকছে চারপাশ, আর রাত ও ভোরে তাপমাত্রা নেমে যাচ্ছে উল্লেখযোগ্যভাবে।
শীতের তীব্রতায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ। পেটের দায়ে জীবিকার সন্ধানে কনকনে শীতের মধ্যেই ভোরবেলা বাড়ি থেকে বের হতে হচ্ছে দিনমজুর, ভ্যানচালক, নৌকার মাঝি ও কৃষিশ্রমিকদের। পর্যাপ্ত গরম কাপড় না থাকায় অনেকেই শীতে কাঁপতে কাঁপতে কাজ করছেন, যা তাদের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।

দিনের বেলা হেডলাইট জ্বালিয়ে চলছে যানবাহন
এলাকাবাসী জানায়, সরকারিভাবে যে পরিমাণ শীতবস্ত্র বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল। ফলে অসহায়, দরিদ্র ও ছিন্নমূল মানুষের বড় একটি অংশ এখনও শীতবস্ত্রের বাইরে রয়ে গেছে। বিশেষ করে চরাঞ্চল ও দুর্গম সীমান্ত এলাকার মানুষ শীতবস্ত্র না পেয়ে চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন।
শীতের প্রকোপে সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে বৃদ্ধ ও শিশুরা। ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে অনেকেই জ্বর, সর্দি-কাশি, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টে ভুগছেন। একই সঙ্গে গবাদি পশুর মধ্যেও শীতজনিত রোগ দেখা দিচ্ছে, ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দরিদ্র কৃষক ও খামারিরা। পর্যাপ্ত চিকিৎসা সেবা ও ওষুধের অভাবে অনেক রোগীকে পড়তে হচ্ছে বাড়তি দুর্ভোগে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল মনে করছেন, এই পরিস্থিতিতে রাজিবপুর ও রৌমারী উপজেলায় জরুরি ভিত্তিতে পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র বিতরণ এবং চিকিৎসা সেবা জোরদার করা প্রয়োজন। পাশাপাশি দুর্গম চরাঞ্চলে ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল টিম পাঠানো হলে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত মানুষ ও গবাদি পশু উপকৃত হবে।
এলাকাবাসীর দাবি, শীতের এই কঠিন সময়ে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে দ্রুত সহায়তা না বাড়ানো হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। তাই মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে অবিলম্বে রাজিবপুর ও রৌমারী উপজেলায় পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র ও চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
আরও খবর : ঠাকুরগাঁওয়ে রুহিয়ায় দোকান ঘর উচ্ছেদ করে মার্কেট নির্মাণের প্রতিবাদে মানববন্ধন
Leave a Reply