
নালিতাবাড়ী শেরপুর প্রতিনিধি: শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার কলসপাড় নঈমী দাখিল মাদ্রাসায় বিজ্ঞান শাখা ও কোনো ধরনের গবেষণাগার (ল্যাব) কার্যক্রম না থাকা সত্ত্বেও কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর এবং গবেষণাগার/ল্যাব সহকারী পদে জনবল নিয়োগ দিয়ে এমপিওভুক্ত করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় মাদ্রাসাটির সুপার মো. আব্দুস সামাদ–এর বিরুদ্ধে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর–এর মহাপরিচালক (ডিজি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রচলিত এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী বিজ্ঞান শাখা ও কার্যকর ল্যাব ব্যতীত কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর কিংবা ল্যাব সহকারী পদ সৃষ্টি ও নিয়োগের কোনো বৈধ সুযোগ নেই। অথচ বাস্তবে মাদ্রাসাটিতে বিজ্ঞান শাখা ও ল্যাব না থাকা সত্ত্বেও মোটা অঙ্কের উৎকোচের বিনিময়ে দুটি পদে নিয়োগ দিয়ে এমপিওভুক্ত করা হয়েছে, যা স্পষ্টতই সরকারি বিধিবিধানের লঙ্ঘন এবং রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয়ের শামিল।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, সুপার আব্দুস সামাদ এর আগেও বয়সসীমা লঙ্ঘন ও জাল সনদের মাধ্যমে একজনকে ইবতেদায়ী প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে এমপিওভুক্ত করেন। পরবর্তীতে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে এলে তাকে একাধিকবার শোকজ করা হয় এবং বর্তমানে ওই শিক্ষকের বেতন-ভাতা বন্ধ রয়েছে।
এছাড়াও সুপারের বিরুদ্ধে নিয়ম বহির্ভূতভাবে গোপনে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটি গঠনের অভিযোগ তোলা হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, এসব অনিয়ম পরিকল্পিতভাবে সংঘটিত হয়েছে এবং এতে শিক্ষা প্রশাসনের কিছু অসাধু চক্র জড়িত থাকতে পারে।
অভিযোগকারীরা দাবি জানিয়েছেন, অবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে অভিযোগসমূহের সত্যতা যাচাই করতে হবে। একই সঙ্গে অনিয়মের মাধ্যমে এমপিওভুক্ত হওয়া সকল নিয়োগ বাতিল, জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম রোধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুপার মো. আব্দুস সামাদ সকল অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, তার প্রতিষ্ঠানে বিজ্ঞান শাখা ও ল্যাব রয়েছে। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক জানান, বাস্তবে সেখানে কোনো বিজ্ঞান শাখা চালু নেই এবং কোনো ধরনের ল্যাব কার্যক্রমও পরিচালিত হচ্ছে না।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা চাঁন মিয়া জানান, বিজ্ঞান শাখা ও ল্যাব না থাকলে কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর ও ল্যাব সহকারী নিয়োগের কোনো সুযোগ নেই। ডিজি বরাবর দেওয়া অভিযোগের অনুলিপি পাওয়া গেছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Leave a Reply