
নিজস্ব প্রতিবেদক:
নওগাঁর মান্দা উপজেলা বিএনপিতে সাম্প্রতিক সময়ে তৈরি হওয়া উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন দলের দীর্ঘদিনের নেতা এম এ মতীন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অসত্য তথ্য, ‘ফেক’ আইডির পোস্ট এবং বিভ্রান্তিকর প্রচারকে ঘিরে তিনি ও তার অনুসারীদের প্রতি অপপ্রচার চলছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় নেতারা।
‘সত্য বিকৃত করা যায় না’—এম এ মতীনের অবস্থান দলীয় জীবনের শুরু ছাত্রদল থেকেই—এম এ মতীন জানান, তিনি ১৯৮৮ সাল থেকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায় অতিক্রম করে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের একাধিক দায়িত্ব, পরে উপজেলা বিএনপি ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির পদে কাজ করেছেন তিনি।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি বহু গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন এবং একাধিকবার কারাবন্দীও হয়েছেন বলে জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন—“মিথ্যে তথ্য উপস্থাপন করে কখনো সত্য প্রতিষ্ঠা করা যায় না। কোনো গণমাধ্যম ভুল তথ্য প্রকাশ করলে আমাকে জানালে আমি ব্যাখ্যা দিতে প্রস্তুত।”
স্থানীয় নেতাদের মতে, বর্তমান উত্তেজনার মধ্যে এম এ মতীনের মনোভাব শান্ত, পরিমিত ও দায়িত্বশীল—যা কর্মীদের মধ্যে প্রশংসা কুড়িয়েছে। ফেসবুকে বিতর্কিত পোস্টে ক্ষোভ স্থানীয় বিএনপি সূত্র জানায়, কয়েকটি ফেসবুক আইডি, যেগুলোকে তারা ‘ফেক’ বলে মনে করছেন, সেগুলো থেকে এম এ মতীন ও তার সমর্থকদের নিয়ে মিথ্যাচার, কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এই পোস্টগুলোর কিছুতে ডা. ইকরামুল টিপুকে প্রশংসা করা হচ্ছে, আবার একই সঙ্গে এম এ মতীনের বিরুদ্ধে নেতিবাচক মন্তব্য করা হচ্ছে—যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করছে।
নেতাদের ভাষ্য— “এই আইডিগুলোর উদ্দেশ্য অস্পষ্ট। কিন্তু যেভাবে মতীনের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে মিথ্যা প্রচারণা চালানো হচ্ছে, তা উদ্বেগজনক।” ডা. টিপুর বক্তব্যে নতুন প্রশ্ন সাম্প্রতিক সমালোচনা প্রসঙ্গে ডা. ইকরামুল বারী টিপু বলেন—
“আমার বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। ধৈর্যই উত্তম পথ।”
তবে তার বক্তব্যে উল্লেখ করা ‘৭টি মামলা’ নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়ায় কর্মীরা পরিষ্কার ব্যাখ্যা চাইছেন। এই হিসাবে এম এ মতীন ও তার পক্ষের বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
মতীন অনুসারীদের দাবি: স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিন ডা. টিপু দলের বেশকিছু সদস্য প্রকাশ্যে দাবি করছেন— ডা. টিপুকে তার জরুরি সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে হবে। তাদের মতে, এমন পরিস্থিতিতে বিভ্রান্তি কাটানোর জন্য স্বচ্ছ অবস্থান জরুরি।
অনেকে আরও বলেন, দলীয়ভাবে সম্পর্ক ছিন্নের আলোচনা থাকলেও আনুষ্ঠানিক কাগজপত্রে ডা. টিপুর নাম এখনো থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে। দলীয় ঐক্যে গুরুত্ব দিচ্ছে এম এ মতীনের পক্ষ এম এ মতীন ও তার অনুসারীরা অন্য সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের বক্তব্য—“ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়, দলীয় ঐক্যই এখন জরুরি। বিবাদে জড়িয়ে আন্দোলন দুর্বল করা যাবে না।”
মান্দা উপজেলা বিএনপির চলমান উত্তেজনার মাঝেও এম এ মতীনের অবস্থান—সত্য প্রতিষ্ঠা, দলীয় ঐক্য ও শান্ত রাজনৈতিক আচরণ—স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
বিতর্কিত অভিযোগগুলোতে পরিষ্কার ব্যাখ্যা না আসা পর্যন্ত পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, তা এখনো অনিশ্চিত।
আরও পড়ুনঃ দিনাজপুরে চিরিরবন্দরে সাংবাদিক ফজলুর রহমানকে মিথ্যা ককটেল মামলায় ফাঁসানোর চক্রান্ত
Leave a Reply