
মোহম্মদ আতিক উল্লাহ চৌধুরী, চট্টগ্রাম,
চট্টগ্রাম নগরীর নাসিরাবাদ জাকির হোসেন রোডের লায়ন আই চক্ষু হাসপাতাল প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ও ছানি অপারেশনের ১২তম ধাপ।
লায়ন আই হসপিটালের উদ্যোগে, জ্যাকো ফাউন্ডেশন কানাডার সহযোগিতায় এবং আল মুসাইদাহ ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এই ধাপে ৪৩ জন দৃষ্টিহীন মানুষ পুনরায় ফিরে পেয়েছেন তাদের দৃষ্টির আলো।
টানা তিন দিনব্যাপী এ মানবিক কার্যক্রমের পর্দা নামে বৃহস্পতিবার। ভোর থেকেই হাসপাতাল চত্বরে ছিল আবেগ ও উচ্ছ্বাসের ছোঁয়া। কেউ বহু বছর পর প্রথমবার দেখলেন প্রিয়জনের মুখ, কেউ প্রথমবার অনুভব করলেন আলোর উষ্ণতা। কেউ হাসলেন, কেউ কেঁদে ফেললেন আনন্দে—আবেগে ভরে উঠল পুরো পরিবেশ।
একজন বৃদ্ধ রোগী আবেগমথিত কণ্ঠে বলেন—আল্লাহ তোমাদের উত্তম প্রতিদান দিন। তোমাদের কারণেই আবার এই সুন্দর পৃথিবীকে দেখতে পারলাম। সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত চলা এই কর্মসূচিতে বিনামূল্যে চিকিৎসা, ছানি রোগী নির্বাচন, চশমা প্রদান, ওষুধ ও সানগ্লাস বিতরণ করা হয়।
মাঠপর্যায়ে সার্বিক তদারকিতে ছিলেন আল মুসাইদাহ ফাউন্ডেশনের সহ-সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবদুল কাদের রুবেল, সমাজকল্যাণ সম্পাদক ওমর ফারুক, সদস্য মোহাম্মদ ইউছুপসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।
অপারেশনের পরদিন যখন রোগীদের চোখের ব্যান্ডেজ খোলা হয়, তখন হাসপাতালের ভেতর তৈরি হয় এক অনন্য আবেগঘন দৃশ্য—কেউ কাঁদছেন, কেউ হাসছেন; কারও চোখে জল, কারও মুখে অপার আনন্দ।
যেন মানবতার এক জীবন্ত উৎসব।একজন আয়োজক সদস্য বলেন—প্রতিটি হাসিমুখ, প্রতিটি আলো ফিরে পাওয়া চোখ আমাদের মনে করিয়ে দেয়—মানবসেবার চেয়ে মহৎ কাজ আর কিছু নেই। এই হাসিই আমাদের পুরস্কার, এই দোয়াই আমাদের প্রেরণা।
চট্টগ্রাম ও আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত অসহায় ও দৃষ্টিহীন মানুষের জন্য নিয়মিতভাবেই এমন মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে আল মুসাইদাহ ফাউন্ডেশন।
দৃষ্টিহীন জীবনে আলো ফিরিয়ে দেওয়ার তাদের এই নিরলস প্রয়াস আজ সমাজে মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে
আরও পড়ুনঃ গ্রামীণ শিক্ষায় এক নতুন দিগন্ত: খানসামায় এ.কে. আজাদ প্রি-ক্যাডেট মাদ্রাসা উদ্বোধন
Leave a Reply