
সোহেল রানা,কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার চাকিরপশার বিলে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার পর পুনরায় ফিরেছে বিলে নৈসর্গিক সৌন্দর্য।
দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ও কিছু ব্যবসায়ী বিলের বিভিন্ন অংশ দখল করে গড়ে তুলেছিল মাছের ঘের ও স্থায়ী বসতি। ফলে বিলের স্বাভাবিক জলপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ে।
সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় বৃহৎ পরিসরে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়। মোট মৌজা: ৫টি আয়তন: ৭০ একর (RS) দুই দফায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
গত ২০/০৩/২৫ এবং তৎপরবর্তী এতে আনুমানিক ৪৯ একর জায়গা অবৈধ দখলমুক্ত করা হয়। কিছুদিন আগে উপজেলা প্রমাশনের উদ্যোগে ১৫ মণ দেশিও মাছের পোনা ছেড়ে দেওয়া হয়। এতে বিলের প্রাকৃতিক রূপ উন্মোচিত হয়ে চারপাশে সৃষ্টি হয়েছে মনোরম পরিবেশ। এখন দূরদূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা আসছেন বিলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে।
ঐতিহ্যবাহী চাকিরপশার বিল এখন দর্শনার্থীদের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। প্রকৃতির নৈসর্গিক সৌন্দর্যে ভরপুর এই বিশাল জলাভূমি যেন এক অপার রূপের আধার। শীতের আগমনী হাওয়ায় যখন বিলজুড়ে নানান প্রজাতির অতিথি পাখি নেমে আসে,তখন চারপাশে সৃষ্টি হয় এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্য।
প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দূরদূরান্ত থেকে পর্যটকরা ছুটে আসছেন বিলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে। পরিবার-পরিজন,বন্ধুবান্ধব কিংবা প্রিয়জনকে নিয়ে অনেকে আসছেন নৌকায় ভ্রমণে, কেউ বা বিলের ধারে বসে প্রকৃতির রূপে হারিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও এখন ব্যস্ত দর্শনার্থীদের চাহিদা মেটাতে-খাবার দোকান,নৌকা ভাড়া ও স্থানীয় পণ্য বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা মো: আনোয়ার হোসেন বলেন,
আগে এই বিল শুধু মাছ ধরা আর কৃষির জন্যই ব্যবহৃত হতো। এখন এখানে প্রতিদিন শত শত মানুষ আসে ঘুরতে। এতে এলাকার অর্থনৈতিক অবস্থান উন্নতি হচ্ছে।
অন্যদিকে একজন দর্শনার্থী,কাউনিয়া’র জসিম সরকার বলেন,চাকিরপশার বিলের দৃশ্য সত্যিই অসাধারণ। এখানে এসে মনে হয় শহরের কোলাহল ভুলে যাওয়া যায়। যদি কিছু অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়,তাহলে এটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র হতে পারে।
বিলের সৌন্দর্য ও জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকায় স্থানীয় প্রশাসনও উদ্যোগী হচ্ছে। রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল ইমরান বলেন,চাকিরপশার বিলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষা ও পর্যটন সুবিধা বাড়াতে আমরা একটি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। শিগগিরই এখানে পর্যটনবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণ,নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হবে।”
পর্যটন বিশেষজ্ঞদের মতে,সঠিক পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করা গেলে চাকিরপশার বিল হতে পারে উত্তরাঞ্চলের অন্যতম আকর্ষণীয় ইকো-
ট্যুরিজম স্পট। এতে যেমন স্থানীয় অর্থনীতি চাঙ্গা হবে,তেমনি বাড়বে কর্মসংস্থানের সুযোগও।
বর্তমানে বিলজুড়ে ফুটে থাকা পদ্মফুল,শাপলা ও শালুক,সেই সঙ্গে ভাসমান নৌকা আর নীল আকাশের প্রতিবিম্ব—সব মিলিয়ে চাকিরপশার বিল যেন এক জীবন্ত ছবির মতো। প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এটি হয়ে উঠছে স্বর্গসদৃশ এক গন্তব্য।
আরও খবর: নকলায় কৃষি কর্মকর্তার ওপর হামলার প্রতিবাদে বকশীগঞ্জে মানববন্ধন
Leave a Reply