
ষ্ট্যাফ রিপোর্টার,
শৃঙ্খলাবোধ, পেশাগত দক্ষতা, শারীরিক সক্ষমতা এবং জনসেবার মান আরও উন্নত করার লক্ষ্যে কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশের আয়োজনে জাঁকজমকপূর্ণ মাস্টার প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে কিশোরগঞ্জ পুলিশ লাইন্স প্যারেড গ্রাউন্ডে জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের কর্মকর্তা ও সদস্যদের অংশগ্রহণে এ প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্যারেডের অভিবাদন গ্রহণ, সালাম গ্রহণ এবং প্যারেড পরিদর্শন করেন কিশোরগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। প্যারেড কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন সহকারী পুলিশ সুপার (শিক্ষানবিশ) মো. সজীব মিয়া।
সুশৃঙ্খল কুচকাওয়াজ, ড্রিল এবং বাহিনীর সদস্যদের সমন্বিত পরিবেশনা পরিদর্শন শেষে পুলিশ সুপার সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, একটি দক্ষ, আধুনিক, জনবান্ধব ও পেশাদার পুলিশ বাহিনী গড়ে তুলতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ, কঠোর শৃঙ্খলা, শারীরিক সক্ষমতা এবং দায়িত্ববোধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব গুণাবলি অর্জনের মাধ্যমে পুলিশ সদস্যরা জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস আরও দৃঢ় করতে সক্ষম হবেন।
পুলিশ সুপার উপস্থিত কর্মকর্তা ও ফোর্সের সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলেন, প্রতিটি সদস্যকে ড্রেসরুলস শতভাগ মেনে পরিচ্ছন্ন ও পরিপাটি পোশাক পরিধান করতে হবে। নিয়মিত পিটি (ফিজিক্যাল ট্রেনিং), প্যারেড, দৌড়, খেলাধুলা এবং অন্যান্য শারীরিক অনুশীলনের মাধ্যমে নিজেকে সবসময় কর্মক্ষম ও ফিট রাখতে হবে। পাশাপাশি ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, ব্যারাক ও কর্মস্থল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং সরকারি সম্পদের যথাযথ সংরক্ষণ নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন।
তিনি আরও বলেন, পুলিশের মূল দায়িত্ব হলো জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সাধারণ মানুষের কাছে দ্রুত ও মানসম্মত সেবা পৌঁছে দেওয়া। এজন্য প্রতিটি পুলিশ সদস্যকে সততা, নিষ্ঠা, মানবিকতা, দায়িত্বশীলতা এবং সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। জনগণের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ, সেবাপ্রত্যাশীদের প্রতি আন্তরিকতা এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে দায়িত্ব পালনের ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
পুলিশ সুপার বলেন, কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশ মাদক, সন্ত্রাস, চুরি-ডাকাতি, কিশোর গ্যাং, নারী ও শিশু নির্যাতনসহ সব ধরনের অপরাধ দমনে নিরলসভাবে কাজ করছে। এ কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে প্রতিটি সদস্যকে সতর্ক, দায়িত্বশীল ও পেশাগতভাবে দক্ষ হতে হবে। তিনি অপরাধ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম জোরদার করে জনগণের সঙ্গে সমন্বয় বৃদ্ধির আহ্বান জানান।
প্যারেড শেষে পুলিশ সুপার কিশোরগঞ্জ পুলিশ লাইন্সের বিভিন্ন সরকারি স্থাপনা, অফিস ভবন, ব্যারাক, অস্ত্রাগার, প্রশিক্ষণ সুবিধা এবং অন্যান্য অবকাঠামো সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন এবং সরকারি স্থাপনার রক্ষণাবেক্ষণ, পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও কর্মপরিবেশের মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, মাস্টার প্যারেড কেবল একটি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি নয়; এটি পুলিশ সদস্যদের শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব, সমন্বয়, শারীরিক সক্ষমতা এবং পেশাগত মান যাচাইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নিয়মিত মাস্টার প্যারেডের মাধ্যমে বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে দায়িত্ববোধ, আত্মবিশ্বাস এবং কর্মস্পৃহা বৃদ্ধি পায়, যা জনগণকে আরও কার্যকর ও মানসম্মত পুলিশি সেবা প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অনুষ্ঠানে কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন ইউনিটের কর্মকর্তা ও বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন রংপুরে মাসিক রেঞ্জ সভায়-শ্রেষ্ঠ পুলিশ সুপারকে স্বীকৃতি-স্মারক ডিআইজি আমিনুল ইসলাম
Leave a Reply