
নিজস্ব প্রতিনিধি তারিকুল ইসলাম তারা:কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলায় এই প্রথমবারের মতো যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে।
দিবসটি উপলক্ষে উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কার্যালয়ের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র্যালী, আলোচনা সভা এবং বিভিন্ন সমবায় সমিতির সদস্যদের মাঝে কাঁঠাল গাছের চারা বিতরণ করা হয়।
এতে সরকারি কর্মকর্তা, সমবায় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং সমবায় সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।
সোমবার (৬ জুলাই) সকাল ১১টায় উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কার্যালয় থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালী বের হয়। র্যালিটি উপজেলা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কার্যালয় প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়।
র্যালীতে অংশগ্রহণকারীরা জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবসের প্রতিপাদ্য সম্বলিত ব্যানার, ফেস্টুন ও বিভিন্ন সচেতনতামূলক স্লোগান প্রদর্শন করেন।
র্যালী শেষে উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কার্যালয় প্রাঙ্গণে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন রাজিবপুর কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতির সভাপতি সাব্বির হোসেন মণ্ডল।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সায়েকুল হাসান খান। তিনি বলেন, গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে সমবায়ভিত্তিক উন্নয়ন কার্যক্রমের বিকল্প নেই।
কৃষি, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা সৃষ্টি, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং দারিদ্র্য বিমোচনে সমবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সরকার গ্রামীণ জনগণের জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে এবং এসব কার্যক্রমে সমবায়ের অংশগ্রহণ আরও বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।
সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান। তিনি দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উদযাপনের মূল লক্ষ্য হলো গ্রামীণ উন্নয়ন, আত্মনির্ভরশীলতা এবং সমবায় আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করা। সমবায়ের মাধ্যমে মানুষের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, সামাজিক উন্নয়ন এবং টেকসই কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজিবপুর উপজেলা যুব বিভাগের সভাপতি মোখলেছুর রহমান বলেন, সমবায়ভিত্তিক উদ্যোগ গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক মুক্তি ও সামাজিক উন্নয়নের অন্যতম হাতিয়ার। তিনি সমবায় কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, স্বাধীনতার চেতনা বাস্তবায়নে গ্রামীণ উন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের উন্নয়নের মূল ভিত্তি হচ্ছে গ্রাম, তাই গ্রামের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
রাজিবপুর ইউসিসিএ লিমিটেডের পরিদর্শক কেরামত আলী সমবায় আন্দোলনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, সঠিক পরিকল্পনা, স্বচ্ছতা এবং সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে সমবায়কে আরও কার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা সম্ভব।
এ বছরের জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল— “পল্লী উন্নয়ন, সমৃদ্ধ দেশ—সবার আগে বাংলাদেশ।” বক্তারা তাদের বক্তব্যে এই প্রতিপাদ্যের আলোকে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, কৃষির আধুনিকায়ন, আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি, নারীর ক্ষমতায়ন, সমবায় কার্যক্রমের সম্প্রসারণ এবং পরিবেশ সংরক্ষণে ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আলোচনা সভা শেষে উপজেলার বিভিন্ন সমবায় সমিতির সদস্যদের মাঝে কাঁঠাল গাছের চারা বিতরণ করা হয়। বক্তারা বলেন, ফলজ ও বনজ বৃক্ষরোপণ শুধু পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে না, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
দিনব্যাপী আয়োজিত কর্মসূচিতে বিভিন্ন সমবায় সমিতির সদস্য, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের আয়োজন ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে অনুষ্ঠিত হলে সমবায় আন্দোলন আরও বেগবান হবে এবং গ্রামীণ উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
আরও খবর: বাঁশখালীতে বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি, লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন
Leave a Reply