
নিজস্ব প্রতিনিধি তারিকুল ইসলাম তারা: ‘বিয়ে না হলে বাঁচব না, মরে যাব’—এমন আবেগঘন মানসিক অবস্থার প্রকাশ ঘটিয়ে পরিবারের কাউকে কিছু না জানিয়েই রাজধানীর মিরপুর থেকে বেরিয়ে পড়ে দ্বিতীয় ও পঞ্চম শ্রেণির দুই শিশু শিক্ষার্থী।
তাদের সঙ্গে ছিল আরও একটি শিশু। পরে একটি অ্যাম্বুলেন্সযোগে তারা রাজবাড়ীর পাংশা এলাকায় পৌঁছে। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে সন্দেহজনক পরিস্থিতির কথা পুলিশকে জানানো হয়। খবর পেয়ে পাংশা মডেল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তিন শিশুকে উদ্ধার করে নিরাপদে থানায় নিয়ে আসে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, থানায় নিয়ে শিশুদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানায়, তারা নিজেদের প্রেমিক-প্রেমিকা হিসেবে ভাবত এবং একসঙ্গে থাকতে চেয়েছিল। তারা আরও জানায়, একসঙ্গে থাকতে না পারলে বা বিয়ে না হলে তারা আত্মহত্যার মতো চরম সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথাও ভেবেছিল।
শিশুদের এমন বক্তব্যকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে পুলিশ তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
পরবর্তীতে শিশুদের পরিচয় শনাক্ত করে তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। অভিভাবকরা থানায় এসে সন্তানদের শনাক্ত করেন। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর তিন শিশুকেই তাদের অভিভাবকদের জিম্মায় নিরাপদে হস্তান্তর করা হয়।
পাংশা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মনসুরুল ইসলাম বলেন, “শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই ছিল আমাদের প্রধান লক্ষ্য। যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাদের পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
অভিভাবকদের উচিত সন্তানদের সঙ্গে নিয়মিত সময় কাটানো, তাদের মানসিক পরিবর্তন বোঝার চেষ্টা করা এবং মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের বিষয়ে সচেতন নজর রাখা।”
শিশু মনোবিজ্ঞান ও সমাজবিশেষজ্ঞদের মতে, অল্প বয়সে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, নাটক-সিনেমা, শর্ট ভিডিও এবং বিভিন্ন অনলাইন কনটেন্টের প্রভাবে অনেক শিশুর মধ্যে সম্পর্ক, প্রেম ও বিয়ে সম্পর্কে অবাস্তব এবং বয়স-অনুপযোগী ধারণা তৈরি হতে পারে।
পরিবারে পর্যাপ্ত সময়, সঠিক দিকনির্দেশনা ও মানসিক সহায়তার অভাব থাকলে তারা আবেগপ্রবণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, শিশুদের আবেগকে কখনোই তুচ্ছ করে দেখা উচিত নয়। তাদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা, খোলামেলা আলোচনা করা, প্রয়োজন হলে কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করা এবং বিদ্যালয়, পরিবার ও সমাজের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে তাদের সুস্থ মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করা জরুরি।
এ ঘটনায় অভিভাবকদের মধ্যে নতুন করে সচেতনতার বার্তা পৌঁছেছে। কোনো শিশু নিখোঁজ হলে বা সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে কোথাও দেখা গেলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ। সময়মতো স্থানীয়দের সচেতনতা এবং পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপের ফলে তিন শিশুই নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরে এসেছে।
আরও খবর: যাত্রী, তোলা, নিয়ে, দ্বন্দ্ব:, নকলায়, চলন্ত, বাসে, মারামারির জেরে প্রাণহানি, বাস জব্দ
Leave a Reply