
মোহাম্মদ দুদু মল্লিক, শেরপুর প্রতিনিধি : শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার ধানশাইল ইউনিয়নের বাগেরভিটা গ্রামের দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মো. দুলাল মিয়ার পৈতৃক ও ওয়ারিশি সম্পত্তি এবং বড় ভাই নূরে আলমের ক্রয়কৃত জমি রেকর্ড ভুক্ত জমি প্রতিবেশী আজিজুল ইসলাম গং কর্তৃক অবৈধভাবে দখল চেষ্টা এবং ভুক্তভোগী পরিবারদের মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি ও প্রাণ নাশের হুমকির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।শুক্রবার (২৬ জুন) ১১ টায় উপজেলার পশ্চিম ধানশাইলে ভুক্তভোগীর চাচা আলহাজ্ব মকশের আলীর বসতবাড়িতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষথেকে লিখিত বক্তব্যে পাঠ করে মো. আব্দুর রহমান বলেন, ধানশাইল ইউনিয়নের কান্দুলী মৌজার ৮১৯ নম্বর খতিয়ানের ৩৩৪ নম্বর দাগে ৮ শতাংশ এবং ৩৩৫ নম্বর দাগে ১৩ শতাংশসহ মোট ২১ শতাংশ রেকর্ডভুক্ত জমির মালিক ছিলেন, দাদা আবির শেখ এর পুত্র পিতা ময়সান শেখ এবং চাচা মকশের আলী।
পিতা ময়সান শেখ জীবিত থাকাকালে ৩৩৪ নম্বর দাগের ৫ শতাংশ জমি প্রতিবেশী মৃত জহুরুল হকের স্ত্রী আয়েশা খাতুনের কাছে বৈধভাবে বিক্রি করেন। ফলে ওই দাগে তার অবশিষ্ট থাকে ৩ শতাংশ এবং ৩৩৫ নম্বর দাগে তাদের অংশ থাকে আড়াই শতাংশ জমি। দুই দাগ মিলিয়ে সাড়ে ৫ শতাংশ জমির ওয়ারিশসূত্রে পরবর্তীতে মালিক প্রাপ্ত হন ময়সান শেখ এর সন্তানরা। অপর দিকে প্রায় চার বছর আগে চাচা মকশের আলীর উত্তরাধিকারীরা তাদের প্রাপ্য সাড়ে ১০ শতাংশ জমির মধ্যে আড়াই শতাংশ বড় ভাই নূরে আলমের কাছে এবং অবশিষ্ট ৮ শতাংশ জমি প্রতিবেশী আব্দুল আজিজের ছেলে, মালয়েশিয়া প্রবাসী শামীম আজিজের কাছে সাব-কবলা দলিলের মাধ্যমে তারা বিক্রি করেন।
তিনি দাবি করেন, উক্ত ৩৩৪ ও ৩৩৫ নম্বর দাগে অবশিষ্ট থাকা তাদের ওয়ারীশ প্রাপ্য সাড়ে ৫ শতাংশ এবং বড় ভাই নূরে আলমের ক্রয়কৃত আড়াই শতাংশসহ এই ৮ শতাংশ জমির ওপর আব্দুল আজিজ বা তার ছেলেদের কোনো বৈধ মালিকানা, দলিল কিংবা কাগজপত্র না থাকা সত্ত্বেও তারা জোরপূর্বক অবৈধভাবে ঘর ও রাস্তা নির্মাণ করে দখল করে রেখেছেন। তাদের কাছে নিজেদের জমি ফেরত চাইতে গেলে অকথ্য ভাষায় গালাগাল, প্রাণনাশের হুমকি এবং ডাকাতিসহ বিভিন্ন মিথ্যা মামলা দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে হয়রানি করে আসছে।
লিখিত বক্তব্য পাঠ করে তিনি আরও বলেন,২০২৪ সালে মালেশিয়া প্রবাসী শামীম আজিজ কর্তৃক উক্ত ঘর নির্মাণ কালে ন্যায্য দাবিতে স্ত্রী, শ্বশুর,শ্যালক ও ছেলে বাধা দিতে গেলে তর্কবিতর্ক করে আমাদের লোকজনের উপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে মারধর করে উল্টো আমাদের ৬ জনকে ডাকাতি মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়।
আমরা দুই ভাই সেদিন ঢাকায় ছিলাম। বাড়িতে কিংবা ঘটনাস্থলে না থেকেও আমাদেরকে পুর্ব পরিকল্পিত ভাবে অভিযুক্ত করা হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, শামীম আজিজ সহ তারা চার ভাই মালেশিয়া প্রবাসী। আমাদের জমিতে বসতঘর নির্মাণ করে সেই বাড়িতে যাতায়াতের জন্য তাদের রাস্তা নির্মাণের চেষ্টাকালে আমাদের লোকজন কর্তৃক বাধা দেওয়ায় শামীমের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেন।
ওই মামলায় স্ত্রী হাবিজাকে আসামী করে গত ১২ জুন সকালে পাঁচ মাস বয়সী পুত্র সহ বাড়ি থেকে তাদের গ্রেফতার করানো হয়। পরে মা ও শিশুকে প্রায় চার ঘণ্টা থানার একটি তালাবদ্ধ কক্ষে আটকে রাখার পর আদালতে পাঠানো হয় বলেও তিনি দাবি করেন।
জবর দখলকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে বলেন, নিজেদের পৈতৃক ও ক্রয়কৃত সম্পত্তি জবর দখল হওয়ায় সরকারি ঘরে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে কোনও বেলা খেয়ে না খেয়ে অনাহারে অর্ধহারে মানবেতর জীবনযাপন করছেন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী দুলাল মিয়া ও তার পরিবার। অপর দিকে ভূমিদস্যুরা সংঘবদ্ধভাবে প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ায় বর্তমানে বসতবাড়িতে জীবন যাপনে নিরাপত্তা হীনতায় রয়েছেন বলেও জানান ভুক্তভোগী পরিবার।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত আজিজুল ইসলাম এর ছেলে মালেশিয়া প্রবাসী শাখাওয়াত হোসেন এর সাথে হোয়াটসঅ্যাপে কথা হলে তিনি বলেন, কয়েক বছর আগে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সমস্যাটি সমাধানের লক্ষ্যে জমি মেপে বুঝিয়ে দিয়েছেন, আমরা তা মেনে নিয়ে সেই জমিতেই বসবাস করছি।আমরা কারো জমি জোরপূর্বক দখল করি নাই। আমাদের ক্রয়কৃত জমিতে আমরা বসবাস করছি।
এ বিষয়ে ধানশাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলামের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, মৃত ময়য়ান শেখের ছেলে ও সাবেক ইউপি সদস্য আজিজুল ইসলামের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে তাদের জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসিতেছে। বিষয়টির সমাধানে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার শালিস বৈঠকও হয়েছিল কিন্তু জমিগুলো মেপে কাউকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। এব্যাপারে ঝিনাইগাতী থানার অফিসার্স ইনচার্জ বলেন যাদের কাগজপত্র বৈধতা আছে তাদেরকে আইনি সহযোগিতা করবো এবং কোন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে দেওয়া হবে না কাউকেই।
আরও পড়ুন দিনাজপুরে মাদকবিরোধী র্যালী-দিবসে ম্যাজিস্ট্রেট নূর-ই-আলম সিদ্দিকী
Leave a Reply