
গাইবান্ধা প্রতিনিধি | মোঃ আবু জাফর মন্ডল
গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ জসিম উদ্দিনকে অবশেষে বদলি করা হয়েছে। তাকে পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ জুন ২০২৬) রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের রাজস্ব শাখা থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
জানা গেছে, রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার উত্তম কুমার দাশ স্বাক্ষরিত ০৫.৪৭.০০০০.০০৮.০১.০০৩.২৫.২৮০ স্মারক নম্বরের এক পত্রে এই বদলির নির্দেশনা প্রদান করা হয়। তবে এই বদলিকে ঘিরে এলাকাজুড়ে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি সাদুল্যাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের হাসানপাড়া এলাকায় খাস জমি বন্দোবস্ত দেখিয়ে প্রায় তিন কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টির সত্যতা যাচাই করতে গেলে অভিযুক্ত এসি ল্যান্ড মোঃ জসিম উদ্দিন তার কার্যালয়ে দুই সাংবাদিককে লাঞ্ছিত করেন বলে অভিযোগ উঠে। ঘটনাটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং গাইবান্ধা জেলাজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।
পরবর্তীতে অভিযোগের বিষয়টি রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের নজরে এলে ঘটনাস্থলে সরেজমিন তদন্ত পরিচালনা করা হয়। তদন্তে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট প্রায় সাড়ে ছয় শতাংশ জমিকে অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে শনাক্ত করা হয় এবং সরকারি মালিকানা নির্দেশ করে সেখানে সাইনবোর্ড টানানো হয়।
অভিযোগ রয়েছে, নিজের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ আড়াল করতে এসি ল্যান্ড জসিম উদ্দিন ওই সাইনবোর্ড টানানো এলাকায় ফটোসেশন করে কিছু স্থানীয় প্রভাবশালী ও সুবিধাভোগী ব্যক্তিদের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন প্রচারণা চালান। স্থানীয়দের দাবি, এটি ছিল মূল দুর্নীতির ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার একটি সুপরিকল্পিত চেষ্টা।
এদিকে সরকারি জমি হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার পরও এখন পর্যন্ত ওই জায়গায় জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর, তার ভাড়াটিয়া এবং অন্যান্য স্থানীয়দের স্থাপনা বহাল রয়েছে। দীর্ঘ সময় পার হলেও সংশ্লিষ্ট স্থাপনা উচ্ছেদে প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন— যদি তদন্তে সরকারি জমি নিশ্চিত হয়ে থাকে, তাহলে এখনো কেন অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে না? আর ঠিক এমন সময়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে অন্য জেলায় বদলি করা হওয়ায় অনেকেই এটিকে ‘শাস্তিমূলক ব্যবস্থা’ নাকি ‘দায় এড়ানোর প্রশাসনিক কৌশল’— সেই প্রশ্নও তুলছেন।
ঘটনাটি এখন শুধু একটি বদলির বিষয় নয়; বরং প্রশাসনিক জবাবদিহিতা, দুর্নীতির অভিযোগ এবং সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও নতুন করে জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
আরও পড়ুন সরিষাবাড়ীতে “পাটনার কংগ্রেস-২০২৬” উপলক্ষে কৃষি বিষয়ক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত
Leave a Reply