
নিজস্ব প্রতিনিধি তারিকুল ইসলাম তারা “ধূমপান হতে বিরত থাকুন”— এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস-২০২৬ উপলক্ষে কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলায় এক বর্ণাঢ্য র্যালি ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সুস্থ সমাজ গঠনের লক্ষ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্যোগে এ আয়োজন করা হয়।
রবিবার (৩১ মে) সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণ থেকে র্যালিটি শুরু হয়ে উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র্যালিতে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, চিকিৎসক, নার্স, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
র্যালিতে অংশগ্রহণকারীরা তামাক ও নিকোটিনের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে বিভিন্ন সচেতনতামূলক স্লোগান সম্বলিত ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড বহন করেন। কর্মসূচিতে ধূমপানমুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলা, তরুণ সমাজকে তামাকের ভয়াবহতা সম্পর্কে অবহিত করা এবং নিকোটিন আসক্তি প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন জোরদারের আহ্বান জানানো হয়।
এবারের বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল— “প্রলোভনের মুখোশ উন্মোচন করি, তামাক ও নিকোটিনের আসক্তি প্রতিরোধ করি।” বক্তারা বলেন, তামাক কোম্পানিগুলো বিভিন্ন কৌশলে তরুণ ও কিশোরদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে। ফলে নতুন প্রজন্মকে রক্ষায় পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের সকল স্তরের মানুষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশে প্রতি বছর লক্ষাধিক মানুষ তামাকজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। ধূমপান শুধু ফুসফুসের ক্যান্সার নয়, হৃদরোগ, স্ট্রোক, শ্বাসকষ্টসহ নানা জটিল রোগের অন্যতম কারণ। এছাড়া পরোক্ষ ধূমপানও শিশু ও নারীদের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা আরও বলেন, একটি সুস্থ, সচেতন ও কর্মক্ষম জাতি গঠনে তামাকমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই। তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়নের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে তামাক ব্যবহারের হার কমিয়ে আনা সম্ভব। এজন্য সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক সংগঠনগুলোকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।
র্যালি শেষে অংশগ্রহণকারীরা তামাক ও নিকোটিনমুক্ত বাংলাদেশ গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের সচেতনতামূলক কর্মসূচি মানুষের মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তামাকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আরও খবর: মামাবাড়ি বেড়াতে গিয়ে আর ফেরা হলো না শিক্ষার্থী সুমাইয়ার
Leave a Reply