
নিজস্ব প্রতিনিধি : তারিকুল ইসলাম তারা: কুড়িগ্রামের প্রত্যন্ত চরাঞ্চলখ্যাত রাজিবপুর উপজেলায় বিনোদনের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে রাজিবপুর ফ্যামেলি পার্ক।
উপজেলার পশ্চিম পাশে বালুরঘাট এলাকায় গড়ে ওঠা এই পার্কটি ইতোমধ্যে পরিবার-পরিজন নিয়ে সময় কাটানোর অন্যতম জনপ্রিয় কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। মনোরম পরিবেশ, পরিচ্ছন্নতা এবং নিরাপদ বিনোদনের কারণে প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থীরা এখানে ভিড় জমাচ্ছেন।
স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরে রাজিবপুরে পরিবার নিয়ে বিনোদন উপভোগ করার মতো উপযুক্ত কোনো স্থান ছিল না। সেই অভাব অনেকটাই পূরণ করেছে এই ফ্যামেলি পার্ক। সবুজে ঘেরা প্রাকৃতিক পরিবেশ, শিশুদের খেলাধুলার ব্যবস্থা এবং পরিবারের সকল সদস্যের জন্য উপভোগ্য পরিবেশ থাকায় পার্কটি দ্রুত মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, পার্কের আশপাশের পরিবেশকে মাদকমুক্ত, জুয়ামুক্ত এবং চাঁদাবাজিমুক্ত রাখার বিষয়ে কর্তৃপক্ষ কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। ফলে পরিবার নিয়ে আগত দর্শনার্থীরা স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপত্তার সঙ্গে সময় কাটাতে পারছেন।
পার্কে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা জানান, “আমরা পরিবার নিয়ে বিনোদনের জন্য এখানে এসেছি। এসে যে সুন্দর পরিবেশ দেখলাম, তাতে সত্যিই মুগ্ধ হয়েছি। রাজিবপুরের মতো প্রত্যন্ত এলাকায় এত সুন্দর একটি বিনোদন কেন্দ্র রয়েছে, না এলে বুঝতেই পারতাম না।
শিশু থেকে শুরু করে বয়স্ক সবাই এখানে আনন্দ উপভোগ করতে পারছে। এমন একটি উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে।”
তবে দর্শনার্থীদের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতির কারণে কিছু চ্যালেঞ্জও দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে জায়গার স্বল্পতার কারণে অনেক সময় আগত দর্শনার্থীদের পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে।
এ বিষয়ে পার্কের দায়িত্বপ্রাপ্ত মমিনুল ইসলাম বলেন, “বর্তমানে আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো জায়গার সংকট। ছুটির দিন এবং বিশেষ উপলক্ষগুলোতে প্রচুর দর্শনার্থী আসেন। তাদের সঠিকভাবে সেবা দিতে অনেক সময় কষ্ট করতে হয়।
তবে আমরা দ্রুত পার্কের পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। আশা করছি, অচিরেই জায়গা সম্প্রসারণের মাধ্যমে দর্শনার্থীদের আরও উন্নত সেবা দিতে সক্ষম হবো, ইনশাআল্লাহ।”
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, রাজিবপুরের মতো সীমান্তবর্তী ও চরাঞ্চল অধ্যুষিত এলাকায় এমন একটি পারিবারিক বিনোদন কেন্দ্র গড়ে ওঠা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি এটি স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। পার্ককে আরও সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন করা হলে এটি ভবিষ্যতে রাজিবপুর উপজেলার অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করতে পারে।
পরিবারের সঙ্গে নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও আনন্দঘন সময় কাটাতে চাইলে রাজিবপুর ফ্যামেলি পার্ক এখন এলাকাবাসীর অন্যতম পছন্দের গন্তব্য হয়ে উঠেছে। এর সৌন্দর্য ও পরিবেশ ইতোমধ্যে দর্শনার্থীদের হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে নিয়েছে।
আরও খবর: মাদকের বিরুদ্ধে কোস্ট গার্ডের অভিযান: চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় বিপুল পরিমাণ বিদেশি বিয়ারসহ আটক ২
Leave a Reply