
আহসান হাবিব রুবেল ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি,
পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলায় টেকসই কৃষি, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার লক্ষ্যে জৈব-বালাইনাশক (বায়োপেস্টিসাইড) ব্যবহারের ওপর ব্যতিক্রমধর্মী কৃষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দিনব্যাপী এ কর্মশালার আয়োজন করে ব্র্যাক সিড অ্যান্ড অ্যাগ্রো এন্টারপ্রাইজ।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, বর্তমান কৃষিতে অতিরিক্ত রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যবহার পরিবেশ ও মানবস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বায়োপেস্টিসাইড একটি কার্যকর, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব বিকল্প হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এর ব্যবহারে মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং দীর্ঘমেয়াদে কৃষিকে আরও টেকসই করার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
আয়োজকরা জানান, বায়োপেস্টিসাইড ব্যবহারে মাটির উর্বরতা বজায় থাকে, ফসলের গুণগত মান উন্নত হয় এবং মানবস্বাস্থ্যের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে। পাশাপাশি কৃষকদের ব্র্যাকের উদ্ভাবিত ধান, সবজি, ভুট্টা ও আলু বীজসহ বিভিন্ন ধরনের বায়োপেস্টিসাইড সম্পর্কেও অবহিত করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আটোয়ারী উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. আফজাল হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর অঞ্চলের রিজিওনাল সেলস, ম্যানেজার মো. মোফাখাইরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আটোয়ারী উপজেলা ডিলার মো. আব্দুস সামাদ এবং সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন টেরিটোরি সেলস অফিসার আহমেদ সুলতানুজ্জামান।
দিনব্যাপী এই কর্মশালায় আটোয়ারী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত প্রায় ৫০ জন কৃষক ও রিটেইলার অংশগ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণে কৃষকদের বায়োপেস্টিসাইডের পরিচিতি, সঠিক প্রয়োগ পদ্ধতি, কার্যকারিতা এবং ফসলের ক্ষতিকর রোগ-পোকা দমনে এর ভূমিকা সম্পর্কে হাতে-কলমে ধারণা দেওয়া হয়।
এছাড়াও ব্র্যাক উদ্ভাবিত উন্নত জাতের বিভিন্ন সবজি বীজ, হাইব্রিড ধান “রাজা”, করলা বীজ “মনি”, চিচিঙ্গা “চাঁদনী” এবং উন্নতমানের আলু বীজের বৈশিষ্ট্য ও চাষাবাদ পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, “রাসায়নিক কীটনাশক থেকে বায়োপেস্টিসাইডে রূপান্তর এখন সময়ের দাবি। টেকসই কৃষি ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে কৃষকদের মধ্যে জৈব-বালাইনাশকের ব্যবহার বাড়াতে হবে। দেশের কৃষি উন্নয়নে ব্র্যাক সিডের এ ধরনের উদ্যোগ প্রশংসনীয়।”
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী কৃষকরা মাঠপর্যায়ে বায়োপেস্টিসাইডের কার্যকারিতা সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। কর্মশালা শেষে অংশগ্রহণকারী কৃষকদের হাতে বিভিন্ন সবজি বীজ ও জৈব-বালাইনাশক উপহার হিসেবে তুলে দেওয়া হয়।
আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগ তৃণমূল পর্যায়ে পরিবেশবান্ধব কৃষি চর্চা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং ভবিষ্যতে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে বাংলাদেশকে আরও এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে।
Leave a Reply