
নিজস্ব প্রতিনিধি তারিকুল ইসলাম তারা: কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে কোনো আধুনিক বিনোদন কেন্দ্র না থাকায় স্থানীয় মানুষের মাঝে ছিল ব্যাপক আক্ষেপ।
অবশেষে সেই অভাব কিছুটা হলেও পূরণ হয়েছে একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগে। উপজেলার আরডিআরএস অফিসের পশ্চিম পাশে বালুর ঘাট এলাকায় গড়ে উঠেছে একটি আকর্ষণীয় বিনোদন কেন্দ্র—‘ফ্যামিলি পার্ক’, যা ইতোমধ্যে স্থানীয়দের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিনোদনপ্রিয় তরুণ উদ্যোক্তা মমিনুল ইসলামের ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও নিজস্ব অর্থায়নে পার্কটি নির্মিত হয়েছে। প্রত্যন্ত চরাঞ্চল হিসেবে পরিচিত রাজিবপুরে শিশু-কিশোর ও পরিবারের সদস্যদের জন্য তেমন কোনো বিনোদনের ব্যবস্থা না থাকায় তিনি নিজ উদ্যোগে এই পার্ক গড়ে তোলেন।
বর্তমানে প্রতিদিন শত শত মানুষ—বিশেষ করে শিশু, কিশোর-কিশোরী ও পরিবার-পরিজন নিয়ে আসা দর্শনার্থীরা পার্কটিতে ভিড় করছেন। বিকেলের পর থেকেই জমে ওঠে পার্কের পরিবেশ। নানা ধরনের বিনোদন উপকরণ, খোলা প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং নিরাপদ পরিসর—সব মিলিয়ে দর্শনার্থীদের কাছে এটি হয়ে উঠেছে আনন্দের এক নতুন কেন্দ্র।
পার্কে আসা কয়েকজন দর্শনার্থী জানান, “রাজিবপুরে এর আগে এমন কোনো জায়গা ছিল না যেখানে পরিবার নিয়ে একটু সময় কাটানো যায়। এই পার্কটি আমাদের জন্য সত্যিই আনন্দের একটি জায়গা হয়ে উঠেছে।”
তবে সম্ভাবনার পাশাপাশি কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে এই পার্কে। উদ্যোক্তা মমিনুল ইসলাম বলেন, “আমাদের রাজিবপুর উপজেলা একটি প্রত্যন্ত চরাঞ্চল হওয়ায় এখানে বিনোদনের কোনো ব্যবস্থা ছিল না। এলাকার মানুষের কথা চিন্তা করে আমি নিজ অর্থায়নে এই পার্কটি গড়ে তুলেছি।
আমরা চেষ্টা করছি সুন্দর পরিবেশে সেবা দিতে। তবে কিছু অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা রয়েছে, যা উন্নয়ন করা প্রয়োজন।”
তিনি আরও বলেন, “যদি সরকারি বা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কিছু সহযোগিতা পাওয়া যায়, তাহলে এই পার্ককে আরও আধুনিক ও আকর্ষণীয় করে গড়ে তোলা সম্ভব হবে। এতে করে স্থানীয় মানুষের বিনোদনের সুযোগ যেমন বাড়বে, তেমনি কর্মসংস্থানেরও সৃষ্টি হবে।”
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, এমন উদ্যোগকে উৎসাহ ও সহযোগিতা দিলে রাজিবপুরে বিনোদন খাতের আরও উন্নয়ন সম্ভব। পাশাপাশি এটি পর্যটনের একটি সম্ভাবনাময় খাত হিসেবেও গড়ে উঠতে পারে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
সব মিলিয়ে, ‘ফ্যামিলি পার্ক’ এখন রাজিবপুরের মানুষের জন্য শুধু একটি বিনোদন কেন্দ্রই নয়, বরং আনন্দ, স্বস্তি আর সময় কাটানোর এক নতুন ঠিকানা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
আরও খবর: রাজিবপুরে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন আলহাজ্ব শামসুল হক
Leave a Reply