
নড়াইল প্রতিনিধি
ঈদের আনন্দ বাড়িয়ে তুলতে নড়াইলে অনুষ্ঠিত হয়েছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী ষাঁড়ের লড়াই।
রবিবার (২২ মার্চ) বিকালে সদর উপজেলার বিছালী ইউনিয়নের কালিনগর গ্রামে এ ষাঁড়ের লড়াই অনুষ্ঠিত হয়।
বিছালী ও কালিনগর গ্রামের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন, বিছালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিমায়েত হুসাইন ফারুক। বিছালী ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি কাজী হাসরাত এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম, ইউপি সদস্য কামরুল বিশ্বাস, বিছালী ক্যাম্পের ইনচার্জ জহিরুল ইসলাম প্রমুখ।
ষাঁড়ের লড়াই কেন্দ্র করে গ্রাম জুড়ে উৎসব মুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে কয়েক হাজার দর্শনার্থী এ ষাঁড়ের লড়াই দেখতে গ্রামটিতে ভিড় করেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ষাড়ের লড়াই ঘিরে সকাল থেক মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। দুপুর গড়াতেই কালিনগর মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।ষাঁড়ের লড়াইয়ের মাঠ ঘিরে চারিপাশে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়।শুধু মাঠেই নয়।রাস্তায় পাশে থাকা গাছে উঠে ষাঁড়ের লড়াই দেখতে দেখা যায় উৎসুক দর্শনার্থীদের।
গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য বাহী এ ষাঁড়ের লড়াই ঘিরে বসে নানা পণ্যের দোকান। চানাচুর,পাপর,মিষ্টি, স্থানীয় হরেক রকম খাবার থেকে শুরু করে খেলনা,মাটির তৈজসপত্র, হস্তশিল্প সহ নানা পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেন দোকানিরা।
শিশু কিশোর থেকে শুরু করে বয়স্করা ও লড়াই দেখতে ভিড় করেছেন গ্রামটিতে। প্রতিযোগিতায় আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ৩৬ টি ষাঁড় অংশ নেয়।
ব্যাপক উৎসব -উদ্দীপনা নিয়ে কলোড়া গ্রাম থেকে ষাঁড়ের লড়াই দেখতে মাঠে এসেছেন ষাটোর্ধ মকবুল মিয়া। তিনি বলেন, “ষাঁড়ের লড়াই দেখতে ভালোই লাগে।
ঈদের ছুটিতে ছেলে ও ছেলেবৌ বাড়িতে এসেছেন। ঈদের পরের দিন কালিনগর মাঠে ষাঁড়ের লড়াইয়ের আয়োজন করায় নাতিকে নিয়ে লড়াই দেখার সুযোগ হয়েছে। নাতিটাকে এই লড়াই দেখাতে পেরে আনন্দটা বেশি অনুভব করছি ”
দর্শনার্থীদের মতে, ষাঁড়ের লড়াই গ্রাম বাংলার এক অবিচ্ছেদ্য একটি অংশ। এটি শুধু একটি সাধারণ খেলা নয় এটি বাংলার ইতিহাস ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে লালল করেন। গ্রাম বাংলার এই ঐতিহ্য সাংস্কৃতি দিন দিন হারিয়ে যেতে বসেছে। তাই এ ধরনের আয়োজনের মধ্যে দিয়ে গ্রাম বাংলার এই সংস্কৃতি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলো ধরার আহবান জানান তারা।
চাকই মধিরগাতি থেকে আসা আরেক দর্শনার্থী মাজারুল হোসেন বলেন, অনেক দিন পর ষাঁড়ের লড়াই অনুষ্ঠিত হওয়ায় গ্রামটিতে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় হয়েছে। যদিও যশোর, নওয়াপাড়া, খুলনা থেকে এখানে ষাঁড়ের লড়াই দেখতে অনেক লোক এসেছেন। যদি আবহাওয়া ভাল হত,আকাশ মেঘলা না হলে ভিন্ন ভিন্ন জেলা থেকে হাজারো নারী, পুরুষ, শিশু, কিশোর এখানে লড়াই দেখতে আসতেন। ”
আয়োজক কমিটির সভাপতি ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর বিশ্বাস বলেন, “গ্রাম বাংলা ঐতিহ্য ধরে রাখতে এ লড়াইয়ের আয়োজন করা হয়েছে। ঈদের আনন্দ বাড়িয়ে তুলতে দুই গ্রামের মানুষ একত্রিত হয়ে এ লড়াইয়ের আয়োজন করা হয়েছে। বিশেষ করে ঈদ ছুটিতে শহর থেকে অনেকে গ্রামের বাড়ি এসেছেন তাদরে পরিবার নিয়ে।
পরিবার স্বজন নিয়ে একটু বিনোদনের জন্য দুই গ্রাম মিলিত হয়ে আমাদের এই আয়োজন। এই আয়োজন ধরা রাখার চেষ্টা থাকবে।
Leave a Reply