
বিশ্বজিৎ চন্দ্র সরকারঃ গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ঘোনাপাড়া মোড়ে অবস্থিত ‘শাপলা গেস্ট হাউস’ ঘিরে সম্প্রতি চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, হোটেলটিতে দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক কার্যকলাপ চলছে, যা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
হাতে-নাতে ধরা পড়ল অনৈতিক সম্পর্ক
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন আগে বিকেলে এক যুবক ও এক তরুণীকে অনৈতিক অবস্থায় হোটেলের একটি কক্ষ থেকে আটক করে এলাকাবাসী। পরে কক্ষটি তালাবদ্ধ করে রাখা হয় এবং স্থানীয় মসজিদ কমিটির মুরব্বিদের বিষয়টি জানানো হয়। মুরব্বিরা জানান, বহুদিন ধরে হোটেলটিকে ঘিরে সন্দেহজনক কার্যক্রমের অভিযোগ শুনলেও এবার তারা হাতে-নাতে প্রমাণ পেলেন।
সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সন্দেহজনক আসা-যাওয়া
ঘোনাপাড়ার ‘বীর প্রতীক লুৎফর রহমান মার্কেট’-এর মধ্যে অবস্থিত এই হোটেলের মালিক সালাউদ্দিন। তাকে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,
“আমি বিষয়টি নিয়ে সত্যিই লজ্জিত। আপাতত হোটেলটি বন্ধ রেখেছি। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে আমি সজাগ থাকব।”
এলাকার এক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাসিন্দা অভিযোগ করেন,
“প্রতিদিন সকাল ৮টার দিকে খুলনা থেকে একটি কালো মাইক্রোবাস হোটেলের সামনে আসে। গাড়ি থেকে নামতে থাকে রঙিন পোশাক পরা, স্কুলব্যাগ হাতে মেয়েরা। দেখে মনে হয় তারা স্কুল বা কোচিং সেন্টারের ছাত্রী। অথচ বাস্তবে তারা এখানে দেহ বিক্রির জন্য আসে। সন্ধ্যায় আবার একই গাড়ি এসে তাদের নিয়ে যায়।”
প্রতিবাদে স্থানীয়দের অবস্থান
গত শুক্রবার বিকেল ৪টায় গোবরা ইউনিয়নের বিএনপির সভাপতি মুরাদ বিশ্বাস স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের সঙ্গে নিয়ে প্রতিবাদ করেন। তিনি বলেন,
“আমাদের এলাকায় দেহ ব্যবসা, মাদক বা চাঁদাবাজি কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। প্রয়োজনে প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের দাবি
এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। সচেতন মহল প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে হোটেলের কার্যক্রম বন্ধ করা এবং এই অনৈতিক চক্রের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।
Leave a Reply