
মোঃ আব্দুস সামাদ শৈলকুপা প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলায়, বিয়ের আশ্বাসে এক তরুণীর সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক এবং পরবর্তীতে জোরপূর্বক গর্ভপাত ঘটানোর অভিযোগ উঠেছে শৈলকুপা উপজেলার কৃষকদল নেতা কামরুল ইসলাম ও তার ছেলে নাজমুল খন্দকারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় থানায় মামলা রেকর্ডভুক্ত হয়েছে।
মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীর জবানবন্দিতে জানা গেছে, দুই বছর ধরে নাজমুল খন্দকারের সঙ্গে ভুক্তভোগী তরুণীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। নাজমুল হচ্ছেন শৈলকূপা উপজেলা কৃষকদলের সদস্য সচিব কামরুল ইসলামের ছেলে। প্রেমের সম্পর্ক চলাকালীন সময়ে নাজমুল তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন।
বিষয়টি নাজমুলের পরিবার জানার পরও কোনো বাধা না দিয়ে উল্টো সম্পর্ক মেনে নেয়। এমনকি তরুণীটি নিয়মিত তাদের বাড়িতে যাতায়াতও করতেন।
একপর্যায়ে ভুক্তভোগী গর্ভবতী হয়ে পড়লে তাকে গর্ভপাত করতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন তিনি।
স্থানীয়রা জানান, অভিযুক্ত পরিবারটি রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় প্রথমে ভুক্তভোগী পরিবারটি বিষয়টি গোপন রাখলেও পরে থানায় অভিযোগ জানাতে বাধ্য হয়।
তার বাবা কামরুল ইসলাম বলেন, ‘ওই মেয়েটি আমাদের বাড়িতে যাতায়াত করত ঠিকই, তবে আমি কিছুই জানি না। গর্ভপাত বা হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার বিষয়ে কিছু শুনিনি।’ একইসঙ্গে তিনি প্রতিবেদককে এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান।
শৈলকূপা থানায়ও একটি পৃথক অভিযোগ করেন ওই নারী। সেই অভিযোগ তদন্ত করে পুলিশ প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা পেয়েছে বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সম্রাট মন্ডল বলেন,” মামলাটি গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
শৈলকূপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুম খান বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, ভুক্তভোগী নারীকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে দীর্ঘদিন ধর্ষণ করা হয়েছে এবং পরে গর্ভপাত ঘটানো হয়েছে। আদালতের নির্দেশে থানায় মামলা রেকর্ড করা হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।’
আরও পড়ুনঃ সরিষাবাড়ীতে বোরো ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন
Leave a Reply