
নিজস্ব প্রতিনিধি তারিকুল ইসলাম তারা: কুড়িগ্রামের সীমান্তবর্তী রৌমারী উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযানে বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে ১ হাজার ৯৭৫ পিস ভারতীয় ইয়াবা ট্যাবলেটসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে বিজিবি। তবে অভিযানের সময় তার আরেক সহযোগী বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
সোমবার (৩ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৭ টা ৩০ মিনিটে জামালপুর ব্যাটালিয়ন (৩৫ বিজিবি)-এর আওতাধীন রৌমারী বিওপির সদস্যরা উপজেলার রৌমারী সিএনজি স্টেশন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচার ও চোরাচালানের বিষয়ে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে রৌমারী বিওপির টহল কমান্ডার নায়েক সিপাহী মো. মাহাবুবের নেতৃত্বে ৬ সদস্যের একটি বিশেষ টহল দল অভিযান চালায়। অভিযানের একপর্যায়ে সন্দেহভাজন মাদক ব্যবসায়ী নাসির (৪৫)-কে আটক করা হয়।
পরে তার দেহ তল্লাশি করে ১ হাজার ৯৭৫ পিস ভারতীয় ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এছাড়া তার কাছ থেকে একটি বাংলাদেশি সিম কার্ডও জব্দ করা হয়েছে।
আটক নাসির কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার খাটিয়ামারী গ্রামের বাসিন্দা। তার পিতা মৃত মনিরুজ্জামান।
অভিযান চলাকালে একই এলাকার রতনপুর গ্রামের বাসিন্দা শাকিল (২৭) নামে আরেক সন্দেহভাজন মাদক ব্যবসায়ী বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।
বিজিবির প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া ১ হাজার ৯৭৫ পিস ভারতীয় ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ৫ লাখ ৯২ হাজার ৫০০ টাকা। এছাড়া জব্দ করা সিম কার্ডের মূল্য প্রায় ৫০০ টাকা। সব মিলিয়ে জব্দকৃত আলামতের মোট মূল্য প্রায় ৫ লাখ ৯৩ হাজার টাকা।
বিজিবি জানিয়েছে, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হবে।
সীমান্তবর্তী রৌমারী এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই মাদক ও বিভিন্ন ধরনের চোরাচালানের ঝুঁকিপূর্ণ রুট হিসেবে পরিচিত। এসব অপরাধ দমনে বিজিবি নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে আসছে।
এ বিষয়ে বিজিবির দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, সীমান্ত দিয়ে মাদক ও অবৈধ পণ্য প্রবেশ ঠেকাতে গোয়েন্দা কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে বিজিবির এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও ধারাবাহিকভাবে চলবে।
স্থানীয় সচেতন মহল বিজিবির এ সফল অভিযানের প্রশংসা করে বলেন, সীমান্ত এলাকায় মাদকের বিস্তার রোধে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর এমন নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকলে মাদক কারবার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।
আরও খবর : গাইবান্ধায় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ডা. মইনুল হাসান সাদিকের সৌজন্য সাক্ষাৎ
Leave a Reply