
নিজস্ব প্রতিনিধি : তারিকুল ইসলাম তারা: কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলার কোদালকাটি ইউনিয়নের সাজাই নতুনগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যে ভুক্তভোগী ছাত্রীর পিতা রাজিবপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সাজাই নতুনগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক, আল মামুনের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে কৌশলে ডেকে নিয়ে শ্লীলতাহানির অভিযোগ আনা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২০ মে ২০২৬ তারিখে বিদ্যালয়ের পাঠদান চলাকালীন সময়ে অভিযুক্ত শিক্ষক ওই ছাত্রীকে বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে তিনি ছাত্রীর সঙ্গে অনৈতিক আচরণ করেন বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী ছাত্রীর পরিবার জানায়, ঘটনার পর থেকেই শিশুটি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে এবং আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাতে থাকে। লজ্জা, ভয় ও সামাজিক চাপের কারণে প্রথমদিকে সে বিষয়টি কাউকে জানাতে পারেনি।
পরে ঈদুল আজহার ছুটির সময় একপর্যায়ে মায়ের কাছে কান্নাজড়িত কণ্ঠে পুরো ঘটনার বর্ণনা দেয়। মেয়ের মুখে এমন অভিযোগ শুনে পরিবার হতবাক হয়ে পড়ে এবং দ্রুত বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্টদের অবহিত করে।
অভিযোগকারী পরিবারের দাবি, ঘটনার বিচার চেয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হলে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়। সে অনুযায়ী গত ১০ জুন বুধবার সকাল ১০টায় বিদ্যালয় মাঠে একটি শালিস বৈঠকের আয়োজন করা হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে অভিযুক্ত শিক্ষক উপস্থিত না হওয়ায় বিচার কার্যক্রম আর এগোয়নি। ফলে কোনো ধরনের সমাধান না পেয়ে এবং সন্তানের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে পরিবারটি আইনের আশ্রয় নেয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো পবিত্র স্থানে এমন অভিযোগের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
অভিভাবকদের ভাষ্য, শিক্ষক সমাজ জাতি গঠনের কারিগর হিসেবে পরিচিত। তাই কোনো শিক্ষক যদি এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকেন, তবে তা শুধু একটি পরিবারের জন্য নয়, পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার জন্যই কলঙ্কজনক।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জানান, অভিযোগটি জানার পর স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই হওয়া প্রয়োজন। তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তের প্রতি আস্থা প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে, স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র, সমাজ ও পরিবারের যৌথ দায়িত্ব। কোনো শিশুর সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে তা গোপন না রেখে দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। তারা অভিযোগের সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
রাজিবপুর থানার একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ভুক্তভোগী পরিবারের লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে এবং তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঘটনাটি বর্তমানে রাজিবপুর উপজেলাজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এলাকাবাসী, অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকরা দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের পাশাপাশি দোষী প্রমাণিত হলে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে কোনো শিক্ষার্থী এমন ঘটনার শিকার না হয় এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপদ পরিবেশ বজায় থাকে।
আরও খবর: নড়াইল জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি দেলোয়ার, সম্পাদক আলী হাসান
Leave a Reply