
নিজস্ব প্রতিনিধি : তারিকুল ইসলাম তারা: কুড়িগ্রামের চরাঞ্চল অধ্যুষিত রাজিবপুর উপজেলায় স্বাস্থ্যসেবার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে ফয়জুর রহমান জেনারেল হসপিটাল (প্রাইভেট) লিমিটেড ও নিউ মর্ডান ডায়াগনস্টিক সেন্টার।
উপজেলার চর রাজিবপুর বটতলার পশ্চিম পাশে প্রতিষ্ঠিত এই হসপিটালটি আজ শুধু একটি চিকিৎসাকেন্দ্র নয়, বরং হাজারো অসহায়, দরিদ্র ও চিকিৎসাবঞ্চিত মানুষের আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে রাজিবপুরের দুর্গম চরাঞ্চলের মানুষকে উন্নত চিকিৎসা সেবা পেতে জেলা শহর কিংবা দেশের বিভিন্ন বড় শহরে ছুটে যেতে হতো। অর্থের অভাব, যাতায়াতের দুর্ভোগ এবং সময়ের সংকটে অনেক রোগী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হতেন। বিশেষ করে জরুরি রোগী, গর্ভবতী মা, শিশু এবং বৃদ্ধদের জন্য এই দুর্ভোগ ছিল চরম কষ্টের।
সেই বাস্তবতা ও মানুষের দুর্ভোগের কথা গভীরভাবে উপলব্ধি করে এলাকার সন্তান, বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. দেলোয়ার হোসেন মানবসেবার মহান ব্রত নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন ফয়জুর রহমান জেনারেল হসপিটাল ও নিউ মর্ডান ডায়াগনস্টিক সেন্টার। তাঁর লক্ষ্য ছিল একটাই—নিজ এলাকার মানুষ যেন নিজ এলাকাতেই আধুনিক ও মানসম্পন্ন চিকিৎসা সেবা পায়।
বর্তমানে হসপিটালটিতে প্রতিদিন রাজিবপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ছাড়াও আশপাশের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল থেকে শত শত রোগী চিকিৎসা নিতে আসছেন। এখানে অভিজ্ঞ ও দক্ষ চিকিৎসকরা বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা প্রদান করছেন। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অপারেশন, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং আধুনিক ডায়াগনস্টিক সুবিধাও পাওয়া যাচ্ছে।
হসপিটাল কর্তৃপক্ষ জানায়, সাধারণ রোগীদের পাশাপাশি জটিল রোগের চিকিৎসার জন্যও নিয়মিত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মাধ্যমে সেবা দেওয়া হচ্ছে। রোগীদের সঠিক রোগ নির্ণয়ের জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতি সংবলিত ডায়াগনস্টিক সেবা চালু রয়েছে। ফলে রোগীদের আর দূর-দূরান্তে গিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে হচ্ছে না।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একসময় সামান্য চিকিৎসার জন্যও অনেক কষ্ট করে জেলা শহরে যেতে হতো। কিন্তু বর্তমানে ফয়জুর রহমান জেনারেল হসপিটাল প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় এলাকার মানুষের চিকিৎসা সেবা অনেক সহজ হয়েছে। বিশেষ করে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য হসপিটালটি আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
হসপিটালটির প্রতিষ্ঠাতা ডা. দেলোয়ার হোসেন সবসময় বিশ্বাস করেন, চিকিৎসা শুধু একটি পেশা নয়, এটি একটি মানবিক দায়িত্ব। সেই বিশ্বাস থেকেই তিনি দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন যেন এলাকার মানুষ ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসা সেবা পেতে পারেন। তাঁর নিরলস প্রচেষ্টা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে হসপিটালটি অল্প সময়েই মানুষের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।
শুধু চিকিৎসা নয়, মানবিক আচরণ ও রোগীবান্ধব পরিবেশের কারণেও হসপিটালটি ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে আন্তরিক ব্যবহার, দ্রুত সেবা প্রদান এবং সুলভ খরচে চিকিৎসা নিশ্চিত করার কারণে সাধারণ মানুষের কাছে এটি একটি বিশ্বস্ত স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।

এলাকার সচেতন মহল মনে করেন, রাজিবপুরের মতো প্রত্যন্ত ও চরাঞ্চল অধ্যুষিত এলাকায় এমন একটি আধুনিক হসপিটাল প্রতিষ্ঠা নিঃসন্দেহে একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ। এটি শুধু স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নেই ভূমিকা রাখছে না, বরং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
মানবসেবা, সততা ও দায়িত্ববোধকে সামনে রেখে এগিয়ে চলা ফয়জুর রহমান জেনারেল হসপিটাল (প্রাইভেট) লিমিটেড ও নিউ মর্ডান ডায়াগনস্টিক সেন্টার আজ রাজিবপুরবাসীর গর্ব। মানুষের দোরগোড়ায় উন্নত চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেওয়ার এই মহৎ উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে—এমন প্রত্যাশাই করছেন এলাকাবাসী।
“মানুষের সেবা করাই সবচেয়ে বড় ইবাদত”—এই আদর্শকে বুকে ধারণ করে ফয়জুর রহমান জেনারেল হসপিটাল ও নিউ মর্ডান ডায়াগনস্টিক সেন্টার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে, আর সেই কারণেই প্রতিষ্ঠানটি আজ রাজিবপুরের মানুষের কাছে মানবসেবার এক উজ্জ্বল নাম।
আরও খবর:চট্টগ্রামে হামের প্রকোপ উদ্বেগজনক, হটস্পট ৯ ওয়ার্ড, হাসপাতালে শয্যা সংকট
Leave a Reply