
মোঃ আব্দুস সামাদ, প্রতিনিধিঃ ঝিনাইদহ জেলায় ফের উত্তপ্ত পরিস্থিতি। শৈলকুপা উপজেলার মাইলমাড়ী এবং হরিণাকুণ্ডু উপজেলার চরপাড়া গ্রামের মধ্যে রোববার (১৮ মে) বিকেলে ত্রাস সৃষ্টি করা এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় পুরো এলাকা। সংঘর্ষে অন্তত শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
ঘটনার সূত্রপাত শনিবার বিকেলে বাজারে মাছ কেনাবেচা নিয়ে দুই গ্রামের যুবকদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ও হাতাহাতি থেকে। সামান্য এই ঘটনার রেশ রোববার সকালে ভয়াবহ আকার ধারণ করে। সকালবেলা শৈলকুপার পোড়াহাটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে মাইলমাড়ী গ্রামের দুই স্কুলছাত্রকে চরপাড়া গ্রামের তিন বহিরাগত যুবক মারধর করে। এ ঘটনা মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়।
দুপুর গড়াতেই দুই গ্রামের মানুষ দেশীয় অস্ত্র, লাঠিসোটা, ইট-পাটকেল, এমনকি পেট্রোল বোমা নিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী চলা সংঘর্ষে উভয় পক্ষের শতাধিক মানুষ আহত হন। এলাকা জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়, সাধারণ মানুষ ঘরে আশ্রয় নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের অনেকেই মুখোশ পরে ছিল এবং তারা পরিকল্পিতভাবে প্রতিপক্ষের ওপর হামলা চালায়। বেশ কিছু বাড়িঘর ও দোকানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের চেষ্টারও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
খবর পেয়ে শৈলকুপা ও হরিণাকুণ্ডু থানা পুলিশ যৌথভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে সেনাবাহিনীর একটি টিমও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তারা।
আহতদের ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল, শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসক সূত্রে জানা গেছে।
এ বিষয়ে শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, “ঘটনার তদন্ত চলছে। দোষীদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে যাতে কোনোপ্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা আর না ঘটে।”
স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে উভয় গ্রামের প্রবীণ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে শিগগিরই এক সমঝোতা বৈঠকের আয়োজন করার কথাও জানানো হয়েছে।
এই ঘটনায় নতুন করে আবারও প্রমাণ হলো — তুচ্ছ কারণে সংঘাত কখনও কখনও বড় ধরনের বিপর্যয়ের জন্ম দিতে পারে। এখন সময় এসেছে, সমাজে সচেতনতা এবং সহনশীলতা গড়ে তোলার।
Leave a Reply