
নিজস্ব প্রতিনিধি, তারিকুল ইসলাম তারা: কুড়িগ্রাম জেলার রাজিবপুর উপজেলার বাউলপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম (পিতা: মৃত আব্দুল মান্নান) এখন স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত থাকার কারণে ধীরে ধীরে তিনি সম্পূর্ণ দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। বর্তমানে দুটি চোখই অন্ধ হয়ে যাওয়ায় তিনি স্বাভাবিক চলাফেরা তো দূরের কথা, নিজের প্রয়োজনীয় কাজটুকুও করতে পারেন না।
২ মার্চ সোমবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এক সময় কর্মক্ষম ও পরিশ্রমী মানুষ হিসেবে পরিচিত সিরাজুল এখন সম্পূর্ণ অসহায়। ডায়াবেটিসের জটিলতার কারণে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ঘা দেখা দিয়েছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পুষ্টিকর খাবারের অভাবে তার শারীরিক অবস্থা দিন দিন আরও অবনতি হচ্ছে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ওষুধ, ইনসুলিন এবং বিশেষ খাদ্যতালিকার প্রয়োজন হলেও আর্থিক সংকটের কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না।
সিরাজুল ইসলামের স্ত্রী জানান, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তার স্বামী। অসুস্থ হয়ে পড়ার পর থেকে সংসারে নেমে এসেছে চরম দুর্দশা। দুই সন্তানকে ঠিকমতো খাবার জোগানোই এখন কঠিন হয়ে পড়েছে, পড়ালেখা তো দূরের কথা। প্রতিবেশীদের সহায়তায় কোনোভাবে দিন পার হলেও তা নিয়মিত নয়। অনেক সময় ধার-দেনা করেই সংসার চালাতে হচ্ছে।
অন্ধত্বের কারণে সিরাজুল নিজে কোথাও কাজ করতে পারেন না। হাঁটতে গেলেও কারও সহায়তা লাগে। তার কণ্ঠে এখন শুধুই হতাশা ও বাঁচার আকুতি। তিনি সরকারের কাছে আর্থিক সহায়তা, চিকিৎসা সহায়তা এবং প্রতিবন্ধী ভাতার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতাও কামনা করেন।
এলাকাবাসী জানান, সিরাজুল ইসলাম অত্যন্ত সৎ ও পরিশ্রমী মানুষ ছিলেন। হঠাৎ অসুস্থতা তার পুরো পরিবারকে বিপর্যস্ত করে দিয়েছে। তারা দাবি করেন, সরকারি ভাবে বিশেষ সহায়তা, চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং প্রতিবন্ধী ভাতার আওতায় দ্রুত অন্তর্ভুক্ত করা হলে পরিবারটি নতুন করে বাঁচার আশা পাবে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, এমন অসহায় পরিবারের পাশে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ জরুরি। সমাজের বিত্তবান ব্যক্তিরাও এগিয়ে এলে সিরাজুল ইসলামের চিকিৎসা ও সন্তানদের শিক্ষার ব্যবস্থা করা সম্ভব হতে পারে।
অন্ধত্ব, দারিদ্র্য ও অসুস্থতার সাথে লড়াই করে বেঁচে থাকা সিরাজুল ইসলামের পরিবার এখন একটি সহানুভূতিশীল হাতের অপেক্ষায়। যথাযথ সহায়তা পেলে হয়তো আবারও স্বপ্ন দেখতে পারবে এই অসহায় পরিবারটি।
আরও খবর: চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজ-এর আয়োজনে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত
Leave a Reply