
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
কিশোরগঞ্জে অবস্থিত ইত্তেবা স্কুল অ্যান্ড কলেজ-এর উদ্যোগে বইমেলা, পিঠা উৎসব ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান–২০২৬ খ্রি. অত্যন্ত আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার সকাল ১০টায় জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। দিনব্যাপী এ আয়োজনকে ঘিরে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের সভাপতি জনাব মোঃ আব্দুল জব্বার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিচালক শামছুল হুদা নাঈম, উপদেষ্টা মোঃ সেলিম জাবেদ এবং সহকারী শিক্ষক ফারজানা আক্তার।
এছাড়াও আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এইচ.টি পপুলার স্কুল অ্যান্ড কলেজ-এর পরিচালক মোঃ দেলোয়ার হোসেন, ইউনিটি আইডিয়াল স্কুল-এর পরিচালক সায়েম আহমেদ, কিশোরগঞ্জ জেলা ফার্মেসী এসোসিয়েশন-এর বিএনপি-সমর্থিত সাধারণ সম্পাদক মোঃ কামাল হোসেন এবং আরজত আতরজান উচ্চ বিদ্যালয়-এর সিনিয়র শিক্ষক জুয়েল স্যারসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
উদ্বোধনী বক্তব্যে বক্তারা বলেন, বইমেলা শিক্ষার্থীদের পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রযুক্তিনির্ভর যুগে বইয়ের প্রতি আগ্রহ ধরে রাখতে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। একইসঙ্গে পিঠা উৎসবের মাধ্যমে গ্রামীণ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে নতুন প্রজন্মকে পরিচিত করানোর একটি সুন্দর প্রয়াস বলেও তারা মন্তব্য করেন।
উল্লেখ্য, ইত্তেবা স্কুল অ্যান্ড কলেজ ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা কার্যক্রম চালু রয়েছে। ভবিষ্যতে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন। ২০১৭ সালে তৎকালীন এডিসি (শিক্ষা) জনাব গোলাম মোহাম্মদ ভূইয়া বিদ্যালয়টিকে ডিজিটাল স্কুল হিসেবে উদ্বোধন করেন, যা প্রতিষ্ঠানটির অগ্রযাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা নিজ উদ্যোগে বিভিন্ন বইয়ের স্টল স্থাপন করে। সৃজনশীল ও শিক্ষামূলক বইয়ের সমাহারে স্টলগুলো দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে। পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের জন্য খেলনার দোকান ও বাহারি সামগ্রীর স্টলও ছিল। পিঠা উৎসবের অংশ হিসেবে ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ পিঠার নানা আয়োজন করা হয়।
ভাপা পিঠা, পাটিসাপটা, চিতই, দুধপুলি ও পায়েসসহ বিভিন্ন দেশীয় খাবারের স্টলে ছিল উপচে পড়া ভিড়। স্টল পরিচালনায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল লক্ষণীয়।
সাংস্কৃতিক পর্ব ছিল দিনব্যাপী আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ। শিক্ষার্থীরা নৃত্য, সংগীত, কবিতা আবৃত্তি, বেলুন ফোটানো, বস্তা দৌড়সহ নানা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত পরিবেশনা উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে। অভিভাবকরাও সন্তানের অংশগ্রহণে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিবৃন্দ। সমাপনী বক্তব্যে আয়োজকরা জানান, এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বিকাশ, সংস্কৃতি চর্চা, নৈতিক শিক্ষা ও সামাজিক সম্প্রীতি গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ভবিষ্যতেও আরও বড় পরিসরে এমন আয়োজন অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
দিনব্যাপী উৎসবমুখর পরিবেশে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সফল সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
আরও পড়ুন মরিচ্যা চেকপোস্টে বাসে লুকানো ১০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার, চালক আটক
Leave a Reply