
সামরুল হক, স্টাফ রিপোর্টার:
জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের সূর্যনগর পূর্বপাড়া এলাকায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে রোপন মিয়া (৪৫) নামে এক কৃষকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে নিজ বাড়িতে ধান মাড়াই ও ধান উড়ানোর কাজ করার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত রোপন মিয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের সূর্যনগর পূর্বপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং হযরত আলীর ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং এলাকার একজন পরিশ্রমী কৃষক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরে বাড়ির উঠানে বৈদ্যুতিক ফ্যানের সাহায্যে ধান উড়ানোর কাজ করছিলেন রোপন মিয়া। ধান থেকে তুষ ও ময়লা আলাদা করার জন্য ব্যবহৃত ফ্যানটি চলমান অবস্থায় ছিল। কাজের একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত তিনি বৈদ্যুতিক সংযোগের সংস্পর্শে চলে যান। এতে তিনি গুরুতর বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই অচেতন হয়ে পড়েন।
ঘটনা দেখতে পেয়ে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বকশীগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. মির্জা সোহেল বলেন, “ধান উড়ানোর কাজে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক ফ্যান থেকেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে রোপন মিয়ার মৃত্যু হয়েছে। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা।”
অপরদিকে দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রোপন মিয়া বকশীগঞ্জ সদর ইউনিয়ন শাখা জামায়াতে ইসলামীর বায়তুলমাল সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় নেতৃবৃন্দ মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
রোপন মিয়ার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শোকের মাতম বিরাজ করছে। স্বজনদের আহাজারিতে এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। প্রতিবেশী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরাও এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয় সচেতন মহল কৃষি কাজে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারের ক্ষেত্রে অধিক সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলেন, খোলা বৈদ্যুতিক তার, ত্রুটিপূর্ণ সংযোগ এবং নিরাপত্তাহীন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহারের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা এড়াতে কৃষকদের আরও সচেতন হওয়ার পাশাপাশি নিরাপদ বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।
এদিকে রোপন মিয়ার মৃত্যুতে পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং এলাকাবাসী শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেছেন।
Leave a Reply