
সামরুল হক স্টাফ রিপোর্টার:
ঢাকা জেলার ধামরাই ও আশুলিয়া এলাকায় পৃথক দুটি বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণ হেরোইন ও ইয়াবাসহ ৫ জন পেশাদার মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি-উত্তর)। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৮০ গ্রাম হেরোইন, ১০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, মাদক বিক্রির নগদ অর্থ এবং একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
ঢাকা জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের সার্বিক দিকনির্দেশনায় মাদক নির্মূলে চলমান বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে ডিবি (উত্তর)-এর অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইদুল ইসলামের নেতৃত্বে জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা করা হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ৯ জুন রাত সাড়ে ৯টার দিকে ধামরাই থানার খোলামোড়া তিন রাস্তার মোড় এলাকায় অভিযান চালায় ডিবি পুলিশ। এ সময় সন্দেহভাজন দুই মাদক ব্যবসায়ী মো. সানোয়ার (৪০) ও লিটন (৪০)-কে আটক করা হয়। পরে তাদের দেহ তল্লাশি ও সঙ্গে থাকা মালামাল পরীক্ষা করে ২০০ পুড়িয়া হেরোইন উদ্ধার করা হয়, যার মোট ওজন প্রায় ২০ গ্রাম। উদ্ধারকৃত হেরোইনের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৬০ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অন্যদিকে, ১০ জুন ভোর সাড়ে ৩টার দিকে আশুলিয়া থানার বাইপাইল এলাকায় পৃথক আরেকটি অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ অভিযানে মো. জহুরুল ইসলাম (২৮), মো. সাদ্দাম হোসেন (৩৫) এবং মো. জাহিদ মোল্লা (৪০) নামের তিন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের হেফাজত থেকে ১০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৬০০ পুড়িয়া হেরোইন (মোট ওজন ৬০ গ্রাম), মাদক বিক্রির নগদ ৫ হাজার ৩০০ টাকা এবং একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২ লাখ ১০ হাজার টাকা।
পুলিশের তথ্যমতে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে মো. সানোয়ারের বিরুদ্ধে পূর্বে ২টি মাদক মামলা, মো. জহুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ১টি মাদক মামলা এবং মো. সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে ১টি মাদক মামলা রয়েছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিক তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে গ্রেপ্তারকৃতদের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
ঢাকা জেলা পুলিশ জানিয়েছে, মাদক ব্যবসা, মাদক পাচার ও মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধ দমনে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং মাদকের বিস্তার রোধে এ ধরনের বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
Leave a Reply