নড়াইল প্রতিনিধি
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাবেক এক শিক্ষা মন্ত্রীর ছবির সাথে নড়াইল সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষক মন্নু বিশ্বাসের নিজের ফেসবুকে শেয়ার করা ছবি ছড়িয়ে পড়ে সেই সাথে বিগত সরকারের আমলে প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে বিভিন্ন অপকর্ম প্রকাশের পর সর্বস্তরে তীব্র নিন্দার ঝড় ওঠে।
মন্নু বিশ্বাসের মতো একজন হীন চরিত্রের ব্যক্তিকে জুলাই গণঅভ্যুণ্থান দিবস কমিটির আহ্বায়ক করার পর বিগত ২৩/৭/২০২৬ তারিখ পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
ফেসবুকে বিভিন্ন মহলের নিন্দা এবং পত্রিকায় তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিগত সরকারের রাজনৈতিক প্রভাবে নারীঘটিত বিষয়ে সহকর্মীকে অপহরণ ও চাঁদাবাজিতে অভিযুক্ত শিক্ষক মন্নু বিশ্বাসকে জুলাই গণঅভ্যুণ্থান দিবস কমিটির আহ্বায়ক পদ হতে প্রত্যাহার করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।
কলেজের একাধিক শিক্ষক-কর্মচারী জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি তীব্র সমালোচিত হওয়ার পর নিজের চেয়ার বাঁচাতে এবং মন্নু বিশ্বাস এর শাস্তি এড়াতে বিতর্কিত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ আকবর আহম্মদ আহ্বায়ক পদ হতে মন্নু বিশ্বাসকে প্রত্যাহার করলেও সাধারণ শিক্ষকবৃন্দকে বাদ দিয়ে অন্যায়ভাবে পরপর ৩ বছর লাভজনক পরীক্ষা কমিটিতে মন্নু বিশ্বাসকে বহাল রেখেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মন্নু বিশ্বাসকে নীয়ম বহির্ভূতভাবে পর পর ৩ বছর লাগাতার লাভজনক সম্মান ১ম ও ২য় বর্ষ কমিটিতে রাখা হয়েছে।
নড়াইল সরকারি মহিলা কলেজের দীর্ঘদিনের প্রচলিত নীয়ম না মেনে এবং শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক সহ গঠিত কমিটি মেকিং কমিটির সুপারিশ গ্রহণ না করে গায়ের জোরে মন্নুকে অনৈতিক সুবিধা প্রদানের জন্য এমন নিন্দনীয় কাজ করা হয়েছে।
শাস্তি এড়াতে আহ্বায়ক পদ রদবদল করলেও বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না, নড়াইল সরকারি মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আকবর আহম্মদ স্বাক্ষরিত অফিস অদেশে "অভ্যুণ্থান" বানান ভুল।
বিজ্ঞপ্তির একাধিক জায়গায় " অভ্যুণ্থান" ভুল করে "অভ্যুথান" লেখা হয়েছে, এমন একটি জনগুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর বিষয়ের অফিস আদেশে "গণঅভ্যুণ্থান" বানান ভুল দায়িত্বের চরম অবহেলা, দিবসটির প্রতি শ্রদ্ধা ও আন্তরিকতার স্পষ্ট ঘাটতি প্রমাণ করে।
অভিযোগের সূত্র মতে অত্র কলেজে ২০১৬ সালে যোগদানের পর হতে নানাবিধ অপকর্মের মাধ্যমে কলেজটির শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করাসহ কলেজটির সুনাম ক্ষুন্ন করেই চলেছেন মন্নু বিশ্বাস। তাঁর নানা অপকর্মের তথ্য প্রমাণ সহ পত্রিকায় ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ হলেও অদ্যাবধি শাস্তি কার্যকর না হওয়ায় তিনি আরো বেপরোয়া আচরণ করছেন ।
সম্প্রতি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আকবর আহম্মদ স্বাক্ষরিত একটি অফিস আদেশ ফেসবুকে ভাইরাল হলে জেলা জুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। অফিস আদেশটিতে জুলাই শহিদ দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক হিসাবে বিতর্কিত শিক্ষক মন্নু বিশ্বাস এর স্বাক্ষর রয়েছে।
২০২২ সালে বিগত সরকারের রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে বহিরাগত ব্যক্তিদের মাধ্যমে একটি নারী ঘটিত বিষয়কে কেন্দ্র করে শত্রুতার জেরে মন্নু বিশ্বাস একজন সিনিয়র শিক্ষককে বাসা হতে অপহরণ করিয়ে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করেন এবং নির্যাতন করেন। পরবর্তীতে এ বিষয়ে মন্নু ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে থানায় এবং পুলিশ সুপার এর নিকট অভিযোগ দায়ের হলে মন্নু বিশ্বাস ও তার সহযোগীরা লিখিত মুচলেকা প্রদান করেন, চাঁদার টাকা ফেরত প্রদান করেন এবং অপরাধ স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। মন্নু বিশ্বাস ও তার সহযোগীদের স্বীকারোক্তিমূলক জবান বন্দি, ঘটনা এবং অপরাধের বর্ণনা সহ শিক্ষক পরিষদের সভায় লিখিত রেজুলেশন করা হয় যে রেজুলেশনে অধ্যক্ষ সহ কলেজের সকল শিক্ষকের স্বাক্ষর রয়েছে।
অবস্হা খারাপ আঁচ করে মন্নু বিশ্বাস তৎকালীন সরকার দলীয় প্রভাব কাজে লাগিয়ে অপহরণ ও চাঁদাবাজির বিষয়টি ধামাচাপা দেন।
নিয়াজ মাহমুদ ভিকু নামে একজন ব্যক্তি তাঁর নিজস্ব ফেসবুক একাউন্টে জুলাই শহিদ দিবস বিষয়ক অফিস আদেশটি পোস্ট করলে নড়াইলের সর্বস্তরের মানুষ বিভিন্ন নেতিবাচক মন্তব্য করেন এবং জেলা জুড়ে তোলপাড় শুরু হয়।
উল্লেখ্য বিগত সরকারের আমলে চাকুরী পাওয়া মন্নু বিশ্বাস তৎকালীন মাগুরার এক এমপিকে ঘুষ প্রদানের মাধ্যমে বিসিএস এ সুপারিশ প্রাপ্ত হয়েছিলেন মর্মে অভিযোগ রয়েছে। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের সাথে সাথে নিজের চাচা শ্বশুর সাবেক একজন এমপির এপিএস এই পরিচয় ব্যবহার করে রুপ বদলানোর চেষ্টা করেন মন্নু বিশ্বাস।
উল্লেখ্য মন্নু বিশ্বাসের বিরুদ্ধে অধ্যক্ষ আকবর আহম্মদকে ম্যানেজ করে পর পর তিন বছর কলেজে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় লাভ জনক কমিটিতে থাকা, প্রাইভেট বাণিজ্য, নিজ স্ত্রীকে নকলে সহায়তা, ব্যবহারিক পরীক্ষার নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, একজন শিক্ষক হয়ে যত্রতত্র ধূমপান, গ্রুপিং সৃষ্টি করে কলেজের পরিবেশ নষ্ট সহ বিস্তর অভিযোগ রয়েছে।
মন্নু বিশ্বাসকে প্রশ্রয় দেওয়া ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আকবর আহম্মদ বিগত সরকারের সময়ে নিজের শ্বশুরবাড়ির রাজনৈতিক প্রভাবে প্রায় ০২ বছর লোহাগড়া সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ছিলেন। লোহাগড়া, নড়াইল হতে বাগেরহাট শাস্তিমূলক বদলির মাত্র ১ সপ্তাহের মাঝে তৎকালীন সরকার দলীয় প্রভাবে বদলি আদেশ সংশোধন করে নড়াইল সরকারি মহিলা কলেজে যোগদান করেন।
দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর আকবর আহম্মদ নিজের রুপ বদলে নতুন করে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় যাওয়ার জন্য নানা কৌশল অবলম্বন করছেন। তিনি একজন শিক্ষক হয়েও যখন যে দল ক্ষমতায় আসে তখন সেই দলের আনুকূল্য পাবার আশায় নড়াইলের স্হানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় থাকেন এবং ফেসবুকে রাজনৈতিক মতাদর্শন প্রচার করেন। সম্প্রতি তিনি অধ্যক্ষ পদের জন্য ডিও লেটার সহ সুপারিশ প্রাপ্তির জন্য চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন এবং যে কোন মূল্যে নড়াইল সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ হবেন মর্মে প্রচার করছেন ।
আকবর আহম্মদ এবং মন্নু বিশ্বাস কলেজে একটি সিন্ডিকেট তৈরী করেছেন। সিন্ডিকেটের সদস্যদের নানা অপকর্ম বিষয়ে সম্প্রতি বিভিন্ন পত্রিকায় ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। অতি সম্প্রতি কলেজের একজন নারী সহকর্মী প্রেস কনফারেন্স করতে বাধ্য হয়েছেন আকবর এবং তার সিন্ডিকেটের অত্যাচারে যা ফেসবুকে নিন্দার ঝড় তোলে।
কলেজের প্রধান সহকারি (অবসর প্রাপ্ত হলেও কলেজে কর্মরত) শেখ আব্দুল আলিম, শিক্ষক পরিষদ সম্পাদক (সদ্য সাবেক) পিযুষ কুমার দাস, শিক্ষক সবুজ কুমার হালদার আকবর আহম্মদ এর সকল অপকর্মের সহযোগী এবং সিন্ডিকেটের সক্রিয় সদস্য। উল্লেখ্য সিন্ডিকেটের সদস্যদের বিরুদ্ধে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হয়ে শাস্তির সুপারিশ হলেও অদ্যাবধি তা কার্যকর হয়নি।
আকবর আহম্মদের ছত্র ছায়ায় শিক্ষক পিযুস কুমার দাস এর বিরুদ্ধে সকল অপকর্মের মূল পরিকল্পনাকারী ও গ্রুপিং এর অভিযোগ, সবুজ কুমার দাস এর বিরুদ্ধে ছাত্রীদের উপবৃত্তির টাকা নিজ মোবাইল একাউন্টে আত্মসাৎ, প্রধান সহকারি শেখ আব্দুল আলিমের বিরুদ্ধে কলেজের মালামাল চুরির অভিযোগ রয়েছে।
সম্প্রতি আকবর আহম্মদ কলেজের রড, ইট সহ নির্মাণ সামগ্রী বিনা টেন্ডারে বিক্রয় করেন, কলেজের জীবন্ত গাছ কাটেন এবং নিউজ ভাইরাল হলে কিছু টাকা কোষাগারে জমা করে ধামাচাপা দেন, কলেজে অনুষ্ঠিত প্রতিটি পরীক্ষা হতে অবৈধ কমিশন গ্রহন করেন, শিক্ষক কর্মচারীদের সাথে খারাপ আচরণ সহ শিক্ষকদের বদলি হতে বাধ্য করেন।
আকবর আহম্মদ জমির ব্যবসা করেন এবং অফিস চলাকালীন জমিজমা বিষয়ে বহিরাগত লোকজন কলেজে এনে পরিবেশ নষ্ট করেন। বহিরাগত ব্যক্তিদের দ্বারা সাধারণ শিক্ষকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন।
বিধি মোতাবেক কলেজের নব গঠিত শিক্ষক পরিষদকে যথাযথ মূল্যায়ণ বা পরামর্শ না করে মন্নুর পরামর্শে কলেজের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন আকবর আহম্মদ।
আকবর - মন্নু সিন্ডিকেট বর্তমান শিক্ষা বান্ধব সরকারের সুনাম নানা ভাবে নষ্ট করছেন এবং নড়াইল সরকারি মহিলা কলেজকে কলঙ্কিত করছেন মর্মে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আকবর আহম্মদ ও মন্নু বিশ্বাস এর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটা সম্ভব হয়নি।
মন্নু বিশ্বাসকে কমিটির আহ্বায়ক পদ হতে প্রত্যাহার করার মাধ্যমে প্রমাণিত হলো মন্নু বিশ্বাস প্রকৃতপক্ষে একজন অপরাধী। জনগুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর বিষয়ের অফিস আদেশে "গণঅভ্যুণ্থান" বানান ভুল স্পষ্টভাবে দায়িত্ব ও কর্তব্যের চরম অবহেলা যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
নড়াইল সরকারি মহিলা কলেজের অনেক শিক্ষার্থী অভিভাবক এবং স্হানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ মনে করেন একজন চিহ্নিত অপরাধী অযোগ্য শিক্ষক মন্নু বিশ্বাস সহ তার সিন্ডিকেটের সকল সদস্যের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।
আরও পড়ুন ফতুল্লা থানায় পারিবারিক বিরোধে সালিশের মধ্যে মারামারির অভিযোগ, এএসআইয়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
উপদেষ্টা:
প্রকাশক: মোছাঃ খাদিজা আক্তার
বিথী
সম্পাদক: আফজাল শরীফ
নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ হারুন-অর-রশিদ
বার্তা সম্পাদক: মোঃ আমিনুল ইসলাম বাহার
সহকারী বার্তা সম্পাদক: মুহাম্মাদ লিটন ইসলাম
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক সংলগ্ন জব্বারগঞ্জ বাজার,
বকশীগঞ্জ, জামালপুর
Copyright © 2026 দশানী ২৪. All rights reserved.