
মোঃ আশরাফুল হক বাবু
নাগরপুর টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি:
টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার পাকুটিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত সাক্ষীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ২০১৩ সালে সরকারিকরণ হলেও দীর্ঘ ১৩ বছরেও একটি নতুন একাডেমিক ভবনের দেখা মেলেনি। প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাবে বর্তমানে একটি শিক্ষক কক্ষ ও তিনটি শ্রেণিকক্ষে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বৃষ্টির সময় শ্রেণিকক্ষের ছাদ দিয়ে পানি পড়ায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ আরও বাড়ে। ফলে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়টির নিজস্ব জমির পরিমাণ ৩৬ শতাংশ। ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থী রয়েছে ১০৫ জন। শিক্ষার্থী সংখ্যার তুলনায় শ্রেণিকক্ষের স্বল্পতা এবং নতুন একাডেমিক ভবনের অভাবে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনায় প্রতিনিয়ত নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, নতুন ভবন নির্মাণ হলে শিক্ষার পরিবেশ উন্নত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীর সংখ্যাও বৃদ্ধি পাবে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল ইসলাম বলেন, ২০১৩ সালে বিদ্যালয়টি সরকারিকরণ হওয়ার পর থেকেই নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণের জন্য একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করা হয়েছে। সর্বশেষ গত ২৬ জুলাই উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। এছাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরেও আবেদন পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, "বৃষ্টির সময় শ্রেণিকক্ষের ছাদ দিয়ে পানি পড়ে। সীমিত শ্রেণিকক্ষে পাঠদান পরিচালনা করতে হয়। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ হলে শিক্ষার পরিবেশ উন্নত হবে এবং শিক্ষার্থীর সংখ্যাও বৃদ্ধি পাবে।"
পাকুটিয়া ইউপি চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সিদ্দিকুর রহমান মুঠোফোনে বলেন, "সাক্ষীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন একাডেমিক ভবনের জন্য আগে অনুমোদন এসেছিল। তবে বিদ্যালয়ে যাতায়াতের উপযোগী সড়ক না থাকায় নির্মাণসামগ্রী পরিবহন সম্ভব হয়নি। ফলে ভবন নির্মাণের কাজ বাস্তবায়ন করা যায়নি। বর্তমানে বিদ্যালয় পর্যন্ত সড়ক নির্মাণের কাজ চলছে। কিছু কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। বাকি কাজ শেষ হলে নতুন ভবন নির্মাণের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করছি। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের জন্য পুনরায় নতুন ভবন নির্মাণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।"
এ বিষয়ে নাগরপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অশোক কুমার মুঠোফোনে বলেন, "সাক্ষীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ উপজেলার মোট ৪৩টি বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নের তালিকা ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও বরাদ্দ পাওয়া গেলে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।"
স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসীর দাবি, ২০১৩ সালে সরকারিকরণের পর দীর্ঘ ১৩ বছর অতিবাহিত হলেও সাক্ষীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এখনো নতুন একাডেমিক ভবন থেকে বঞ্চিত। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপদ, আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
আরও পড়ুন ইসলামপুরে ওয়ালটন প্লাজার কিস্তি সুরক্ষা সহায়তা পেলেন গ্রাহক
উপদেষ্টা:
প্রকাশক: মোছাঃ খাদিজা আক্তার
বিথী
সম্পাদক: আফজাল শরীফ
নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ হারুন-অর-রশিদ
বার্তা সম্পাদক: মোঃ আমিনুল ইসলাম বাহার
সহকারী বার্তা সম্পাদক: মুহাম্মাদ লিটন ইসলাম
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক সংলগ্ন জব্বারগঞ্জ বাজার,
বকশীগঞ্জ, জামালপুর
Copyright © 2026 দশানী ২৪. All rights reserved.