
ঝালকাঠি প্রতিনিধি
ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা দুর্নীতির বর পুত্র (পিআইও) মো. আওলাদ হোসেনের বদলিকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। কবরস্থান উন্নয়ন প্রকল্পে মাটি ভরাটে অনিয়ম, ঘুষ গ্রহণ, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থ আত্মসাৎ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরে সমালোচিত এই কর্মকর্তার বদলির আদেশ কার্যকর হওয়ার আগেই তাকে নলছিটিতে বহাল রাখতে তদবির চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, কবরস্থান উন্নয়ন প্রকল্পসহ উপজেলার বিভিন্ন সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যাপক অনিয়ম ও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগের প্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। পরে ঘুষের টাকা ফেরত দিয়ে সে যাত্রা রেহাই পায় । অভিযোগ রয়েছে, একাধিক প্রকল্পে সংশ্লিষ্ট সিবিসি (CBC) সভাপতিদের সঙ্গে যোগসাজশ করে সরকারি অর্থ লোপাট, নিম্নমানের কাজ বাস্তবায়ন এবং ঘুষ গ্রহণের মাধ্যমে অনিয়ম করা হয়েছে। এছাড়া সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের নাম-পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ত্রাণ প্রশাসন শাখা গত ১৪ জুলাই এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে মো. আওলাদ হোসেনকে গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলায় বদলি করে। প্রজ্ঞাপনে আগামী ২০ জুলাইয়ের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বদলির খবর প্রকাশের পর নলছিটি উপজেলার সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ও সন্তোষের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকেই মনে করছেন, দীর্ঘদিনের অভিযোগের পর অবশেষে প্রশাসন একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে।
তবে অভিযোগ উঠেছে, বদলির আদেশ কার্যকর হওয়ার পরও সরকারদলীয় সুবিধাভোগী কয়েকজন ব্যক্তি ও একটি প্রভাবশালী মহল তাকে বর্তমান কর্মস্থলে বহাল রাখতে বিভিন্ন পর্যায়ে তদবির চালাচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা জুড়ে নতুন করে গুঞ্জনের সৃষ্টি হয়েছে এবং জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, কেবল বদলি নয়, তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত দায়ীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। তাদের মতে, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. আওলাদ হোসেনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উপদেষ্টা:
প্রকাশক: মোছাঃ খাদিজা আক্তার
বিথী
সম্পাদক: আফজাল শরীফ
নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ হারুন-অর-রশিদ
বার্তা সম্পাদক: মোঃ আমিনুল ইসলাম বাহার
সহকারী বার্তা সম্পাদক: মুহাম্মাদ লিটন ইসলাম
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক সংলগ্ন জব্বারগঞ্জ বাজার,
বকশীগঞ্জ, জামালপুর
Copyright © 2026 দশানী ২৪. All rights reserved.