গাইবান্ধা প্রতিনিধি | মোঃ আবু জাফর মন্ডল
দেশজুড়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, ধর্মীয় সহনশীলতা এবং সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন (এইচআরসিবিএম)-এর কেন্দ্রীয়, স্থানীয় ও আঞ্চলিক নেতৃবৃন্দ দুই দিনের গুরুত্বপূর্ণ সফরে উত্তরাঞ্চলের গাইবান্ধা জেলায় অবস্থান করেন।
সম্প্রতি পলাশবাড়ী উপজেলার কোমরপুর এলাকার রামচন্দ্রপুর গ্রামে যুগাবতার শ্রীরাম চন্দ্রের মূর্তি নির্মাণকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতি এবং এ ঘটনাকে ঘিরে বিভিন্ন মহলে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে সংগঠনটির পক্ষ থেকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।
এই সফরে প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন অ্যাডভোকেট লাকি বাচার যিনি এইচআরসিবিএম বাংলাদেশ চ্যাপ্টার -এর কনভেনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সফরের শুরুতেই প্রতিনিধি দল গাইবান্ধা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং যেকোনো ধরনের অপপ্রচার বা বিভ্রান্তি রোধে প্রশাসনের গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে মতবিনিময় করেন।
পরবর্তীতে প্রতিনিধি দল পলাশবাড়ী থানা পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করেন। এ সময় স্থানীয় পরিস্থিতি, সম্প্রদায়ভিত্তিক সম্প্রীতির ঐতিহ্য ধরে রাখা, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও সহকারী পুলিশ সুপার ‘সি’ সার্কেলের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও প্রতিনিধি দল পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন।
দুই দিনের সফরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে প্রতিনিধি দল সরেজমিনে পরিদর্শন করেন কোমরপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামে নির্মাণাধীন শ্রীরাম মূর্তি ও মন্দির নির্মাণ প্রকল্প এলাকা। সেখানে গিয়ে তারা স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলেন, প্রকল্প ঘুরে দেখেন এবং সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেন।
এ সময় প্রতিনিধি দল প্রকল্পের প্রধান উদ্যোক্তা হরিদাস চন্দ্রের সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা করেন। মূর্তি ও মন্দির নির্মাণের উদ্দেশ্য, স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ, সামাজিক প্রতিক্রিয়া এবং সম্প্রদায়গত সম্প্রীতির বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়।
সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরেই ধর্মীয় সহাবস্থান, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে বিশ্বে পরিচিত। সেই ঐতিহ্যকে বিনষ্ট করার যেকোনো অপচেষ্টা রুখে দিতে নাগরিক সমাজ, প্রশাসন এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলোকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
তারা আরও বলেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। কোনো ঘটনাকে কেন্দ্র করে যাতে ভুল বোঝাবুঝি, উসকানি বা বিভাজন সৃষ্টি না হয় সেদিকে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
এইচআরসিবিএম নেতৃবৃন্দ তাদের সফর শেষে জানান, গাইবান্ধার ঘটনাটি তারা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে ভবিষ্যতেও স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবেন।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, এমন একটি সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার প্রতিনিধি দলের সরেজমিন উপস্থিতি এবং প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়মূলক আলোচনা এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রাখতে সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষের পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা এবং সামাজিক ঐক্যের বিকল্প নেই— এমন বার্তাই উঠে এসেছে এই গুরুত্বপূর্ণ সফর থেকে।
উপদেষ্টা:
প্রকাশক: মোছাঃ খাদিজা আক্তার
বিথী
সম্পাদক: আফজাল শরীফ
নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ হারুন-অর-রশিদ
বার্তা সম্পাদক: মোঃ আমিনুল ইসলাম বাহার
সহকারী বার্তা সম্পাদক: মুহাম্মাদ লিটন ইসলাম
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক সংলগ্ন জব্বারগঞ্জ বাজার,
বকশীগঞ্জ, জামালপুর
Copyright © 2026 দশানী ২৪. All rights reserved.