নিজস্ব প্রতিবেদক ফজলুর রহমানঃ
দিনাজপুরে সুন্দরী স্ত্রীকে দিয়ে হানি ট্র্যাপ ব্যবসা করে শীর্ষ সন্ত্রাসী মুসা সামাজিক যোগাযোগ,প্রেমের অভিনয়,এরপর নির্জন স্থানে ডেকে নেওয়া।
টার্গেট ফাঁদে পা দিলেই শুরু হতো অপহরণ, মারধর আর মুক্তিপণের ভয়াবহ খেলা।
দিনাজপুরে এমনই এক ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্রের মূলহোতা হিসেবে পরিচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী মো. মুসা ইব্রাহিম তার সুন্দরী স্ত্রীকে ব্যবহার করেই গড়ে তুলেছিলেন অপহরণ ও চাঁদাবাজির ভয়ঙ্কর নেটওয়ার্ক-এমন তথ্য জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় মুসা ইব্রাহিম (২৭) ও তার স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা (২২) কে গ্রেপ্তার করেছে দিনাজপুর কোতোয়ালি থানা পুলিশ।
মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টায় দিনাজপুর কোতোয়ালি থানায় আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল হালিম।
এ সময় কোতোয়ালি থানার ওসি নুর নবী উপস্থিত ছিলেন। এর আগে সোমবার রাত পৌনে ১২টার দিকে দিনাজপুর শহরের কালিতলা সারদেশ্বরী বালিকা উচ্চবিদ্যালয় সংলগ্ন একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার মুসা দিনাজপুর সদর উপজেলার চেহেলগাজী ইউনিয়নের বড়ইল গ্রামের মৃত কছিম উদ্দীনের ছেলে।
আর আয়শা সিদ্দিকা উপশহর ৮ নম্বর ব্লকের মৃত আনোয়ার হোসেনের মেয়ে। প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল হালিম বলেন,মুসার বিরুদ্ধে অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়,চুরি,ছিনতাই, দস্যুতা,ডাকাতি ও খুনসহ ২৪টি মামলা রয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে সে স্ত্রী আয়শাকে ব্যবহার করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে প্রেমের ফাঁদে ফেলত। পরে তাদের শহরে ডেকে এনে অপহরণ করে পরিবারের কাছে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করা হতো।তিনি জানান,গত ২৩ এপ্রিল ফুলবাড়ী উপজেলার রাজারামপুর গ্রামের নিতাই চন্দ্র রায় কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, তার ছেলে ধনঞ্জয়কে প্রেমের সম্পর্কের কথা বলে দিনাজপুর শহরে ডেকে আনে আয়শা। পরে তাকে অপহরণ করে পরিবারের কাছে চার লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। ওই ঘটনায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ ধনঞ্জয়কে উদ্ধার করে এবং মুসার ভাই শাহজাহানকে গ্রেপ্তার করে।
এ সময় সন্ত্রাসীরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে পুলিশের ওপর হামলাও চালায় বলে জানায় পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য,মুসা ইব্রাহিম এলাকায় একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও পেশাদার চাঁদাবাজ হিসেবে পরিচিত। তার কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্কে ছিল।
গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে দুটি ধারালো রামদা, একটি হাসুয়া,একটি ছোরা,তিনটি মোবাইল ফোন ও একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা মোবাইল ফোনগুলো থেকে চক্রটির অপকর্মের বিভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
চক্রটির অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। মঙ্গলবার বিকেলে গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
আরও পড়ুন সাংবাদিকদের মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচির আহ্বান
উপদেষ্টা:
প্রকাশক: মোছাঃ খাদিজা আক্তার
বিথী
সম্পাদক: আফজাল শরীফ
নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ হারুন-অর-রশিদ
বার্তা সম্পাদক: মোঃ আমিনুল ইসলাম বাহার
সহকারী বার্তা সম্পাদক: মুহাম্মাদ লিটন ইসলাম
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক সংলগ্ন জব্বারগঞ্জ বাজার,
বকশীগঞ্জ, জামালপুর
Copyright © 2026 দশানী ২৪. All rights reserved.