নিজস্ব প্রতিনিধি : তারিকুল ইসলাম তারা
কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলায় সরকার অনুমোদিত কোনো ফিলিং স্টেশন না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে পেট্রোল, ডিজেল ও অকটেনের তীব্র সংকটে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালক, কৃষক, পরিবহন শ্রমিক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল জ্বালানি সরবরাহ এবং খুচরা পর্যায়ে অতিরিক্ত দামে বিক্রির কারণে দিন দিন পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, জ্বালানি তেলের জন্য সকাল থেকেই বিভিন্ন খুচরা দোকানে মানুষের দীর্ঘ লাইন। অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও পর্যাপ্ত তেল সংগ্রহ করতে পারছেন না। কোথাও আবার জ্বালানি শেষ হয়ে যাওয়ায় খালি হাতেই ফিরতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজিবপুর উপজেলায় সরকার অনুমোদিত কোনো ফিলিং স্টেশন না থাকায় পুরো উপজেলাবাসী নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন সীমিত সংখ্যক খুচরা জ্বালানি বিক্রেতার উপর। এসব দোকানে যে পরিমাণ তেল সরবরাহ করা হয়, তা চাহিদার তুলনায় অনেক কম। ফলে প্রতিদিনই সৃষ্টি হচ্ছে সংকট।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সরকারি ডিলারদের কাছ থেকে খুচরা ব্যবসায়ীরা সীমিত পরিমাণে জ্বালানি সংগ্রহ করেন। কিন্তু উপজেলায় মোটরসাইকেল, সেচযন্ত্র, নৌযান ও কৃষি কাজে ব্যবহৃত ইঞ্জিনের সংখ্যা দিন দিন বাড়লেও সেই অনুপাতে জ্বালানির সরবরাহ বৃদ্ধি পায়নি। এতে করে কৃষি মৌসুমে কৃষকরাও চরম বিপাকে পড়ছেন।
উপজেলার কয়েকজন মোটরসাইকেল চালক জানান, প্রতিদিন জীবিকার প্রয়োজনে বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করতে হয়। কিন্তু সময়মতো তেল না পাওয়ায় তাদের আয় কমে যাচ্ছে। অনেকে আবার বেশি দামে তেল কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে গিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার বিভিন্ন খুচরা দোকানে প্রতি লিটার পেট্রোল ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা হচ্ছে। অথচ সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে এটি অনেক বেশি। স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের তদারকি না থাকায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এই সুযোগে অতিরিক্ত দামে জ্বালানি বিক্রি করছেন।
অন্যদিকে কৃষকরাও পড়েছেন চরম দুর্ভোগে। সেচ মেশিন ও কৃষি কাজে ব্যবহৃত যন্ত্র চালাতে ডিজেল প্রয়োজন হলেও সময়মতো তা সংগ্রহ করতে না পারায় অনেক ক্ষেত্রে কৃষি কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ যেমন বাড়ছে, তেমনি কৃষকদের মধ্যে হতাশাও বাড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাজিবপুর একটি প্রত্যন্ত সীমান্তবর্তী উপজেলা হওয়ায় এখানে যাতায়াত ও ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য জ্বালানির গুরুত্ব অনেক বেশি। কিন্তু দীর্ঘদিনেও সরকার অনুমোদিত কোনো ফিলিং স্টেশন স্থাপন না হওয়ায় মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
এদিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের শিবের ডাঙ্গী এলাকায় “ভাই ভাই ফিলিং স্টেশন” নামে ১ একর জায়গা নিয়ে একটি ফিলিং স্টেশন স্থাপনের জন্য আবেদন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের মতে, দ্রুত এই ফিলিং স্টেশনটির অনুমোদন দেওয়া হলে উপজেলার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ অনেকাংশে লাঘব হবে। একই সঙ্গে জ্বালানির কৃত্রিম সংকট ও অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের প্রবণতাও কমে আসবে।
স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত রাজিবপুর উপজেলায় সরকার অনুমোদিত একটি পূর্ণাঙ্গ ফিলিং স্টেশন স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, একটি আধুনিক ফিলিং স্টেশন চালু হলে সাধারণ মানুষ যেমন স্বস্তি পাবে, তেমনি কৃষি ও স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
বিরামপুরে ভিক্টর স্পোর্টিং ক্লাবের উদ্যোগে ৫৬০ পরিবারে ইফতার বিতরণ, ৬০০ জনের মহা ইফতার মাহফিল
উপদেষ্টা:
প্রকাশক: মোছাঃ খাদিজা আক্তার
বিথী
সম্পাদক: আফজাল শরীফ
নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ হারুন-অর-রশিদ
বার্তা সম্পাদক: মোঃ আমিনুল ইসলাম বাহার
সহকারী বার্তা সম্পাদক: মুহাম্মাদ লিটন ইসলাম
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক সংলগ্ন জব্বারগঞ্জ বাজার,
বকশীগঞ্জ, জামালপুর
Copyright © 2026 দশানী ২৪. All rights reserved.